আমি অবাধ তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাস করি : অ্যাটর্নি জেনারেল
অবাধ তথ্যপ্রবাহ, সুপ্রিম কোর্ট সাংবাদিকতা এবং আদালত কাভারেজ—এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে বক্তব্য দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, আদালতসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রোববার (২৯ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আদালত কক্ষে প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে সাংবাদিকদের যেসব বাধা রয়েছে, তা নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করবেন।
সাংবাদিকদের ভূমিকার স্বীকৃতি
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচার বিভাগের কার্যক্রম জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে কার্যকর ও অর্থবহ করতে আইনজীবীদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, অতীতে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি পেশাটির চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগত। আদালতের খবর নিয়ে জনগণের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তথ্যপ্রবাহ ও সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গ
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের আদালত কক্ষে প্রবেশাধিকার আগের তুলনায় কিছুটা সীমিত হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। এই সীমাবদ্ধতা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলছে বলেও অনেকে মনে করছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনা হবে এবং যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
ভুল তথ্য ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ
অবাধ তথ্যপ্রবাহের পক্ষে অবস্থান নিলেও ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি অপতথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগে দ্রুত তথ্যপ্রবাহ যেমন প্রয়োজন, তেমনি তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আইন ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক
আইন বিশ্লেষকদের মতে, বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত রাখতে সাংবাদিকদের নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার থাকা প্রয়োজন।
তবে একই সঙ্গে সংবেদনশীল মামলার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল প্রতিবেদন এবং নৈতিকতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামীর প্রত্যাশা
অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে আদালত প্রতিবেদনে আরও স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত হলে বিচার বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
Source: Based on reporting from Amar Desh
