প্রমাণ মিলেছে জেট ফুয়েল চুরির, মূল হোতাকে বদলি
জেট ফুয়েল চুরিতে মূল হোতা বদলি, পদ্মা অয়েলের তদন্ত কার্যক্রম জোরদার
নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে ঢাকার কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোতে যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে পদ্মা অয়েল পিএলসির একটি তদন্ত দল দুইদিন ধরে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
চুরি ও প্রাথমিক প্রমাণ
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা গেছে, জেট ফুয়েল বহনকারী চারটি যানবাহন ডিপোতে প্রবেশ করেনি। এছাড়াও, ডিপোর তেল পরিমাপে স্বাভাবিকের তুলনায় পরিমাণ কম পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই করা হয়েছে।
মূল হোতার বদলি
প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হককে বদলি করা হয়েছে। পদ্মা অয়েলের মহাব্যবস্থাপক মীর মো. ফখর উদ্দিনের অফিস আদেশে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তার স্থলে দৌলতপুর ডিপোর ইনচার্জ মো. রিদওয়ানুর রহমানকে নিয়োগ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি ও কার্যক্রম
পদ্মা অয়েলের তিন সদস্যের তদন্ত দল কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছে বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা, তেলবাহী যানবাহনের তথ্য যাচাই এবং তেল পরিমাপ করেছে। তদন্তে উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) মো. শফিউল আজম এসিএ, ব্যবস্থাপক (পরিচালন) পেয়ার আহাম্মদ এবং কর্মকর্তা (ইঞ্জি.) কে এম আবদুর রহিম অংশ নিয়েছেন।
সাইদুল হকের অতীত অভিযোগ
চলতি চুরির অভিযোগের আগে সাইদুল হকের বিরুদ্ধে পদ্মা অয়েলের বিভিন্ন দফতরে তেল চুরি ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ২০ জানুয়ারি তাকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি দমন হননি। ২০১৯ সালে সহকারী ব্যবস্থাপক পদে থাকাকালে ব্যাংক ঋণের সময় জাল বেতন সনদ দাখিলের অভিযোগে নোটিশ পাওয়া সত্ত্বেও ২০২০ সালে উপ-ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
সার্বিক প্রেক্ষাপট
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাইদুল হক পদ্মা অয়েলের সাবেক শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমানে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া নেতা মো. আমিনুল হকের ছোট ভাই। তার বনানী এলাকার দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের আনুমানিক মূল্য আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া তিনি একটি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন।
তদন্তের অগ্রগতি
পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, "দুইদিন ধরে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।"
এ ঘটনায় পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সরকারের তত্ত্বাবধানে তদন্ত প্রমাণ করছে যে তেলের চুরি প্রতিরোধ ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি উদ্যোগী।
Source: Based on reporting from ঢাকা পোস্ট
