বিএনপি নেতাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান আ. লীগ নেতা

বিএনপি নেতাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান আ. লীগ নেতা

জামালপুর সদর উপজেলায় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিএনপি নেতাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাওয়ার প্রচারণা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা যায়, কেন্দুয়া কালিবাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সভাপতি ও ইউপি সদস্য শহিনুর ইসলাম শাহীন সদর উপজেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলন কে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান উল্লেখ করে ফেস্টুন টানিয়ে প্রচার চালিয়েছেন। ফেস্টুনের ছবি তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতেও পোস্ট করেন।

এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শহিনুর ইসলাম শাহীন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরী এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি টানা দুইবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ পান। সে সময় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আন্দোলনের সময়ের অভিযোগ

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জুলাই মাসে সংঘটিত আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের অর্থ ও লোকবল দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন শহিনুর ইসলাম শাহীন।

তবে গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরও তিনি বহাল তবিয়তে ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে জেলার অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের অনেকেই পলাতক, মামলার আসামি বা কারাগারে থাকলেও শাহীন এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

ইউপি চেয়ারম্যান পদ নিয়ে অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কেন্দুয়া কালিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন সাইফুল ইসলাম খান। ৫ আগস্টের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান।

পরে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে রেজুলেশন করে তার আত্মীয় মিজানুর রহমান কে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের জবাব

অভিযোগের বিষয়ে শহিনুর ইসলাম শাহীন বলেন, “রুহুল আমিন মিলনের সঙ্গে আগে থেকেই আমার সম্পর্ক রয়েছে। আমরা একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন, তাই আমি প্রচার করেছি। ইনশাল্লাহ তাকে নির্বাচনও করিয়ে দেব।”

তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

বিএনপি নেতার বক্তব্য

এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলন বলেন, “তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। সে ফেস্টুন দিয়েছে কি না আমি জানি না। আমি তাকে কোনো আশ্রয় দিইনি। অন্যদের মতো সেও এলাকায় আছে।”

Next Post Previous Post

Advertisement