জুলাই সনদ নিয়ে আদালতের রুল জারি এখতিয়ার বহির্ভূত : বদিউল আলম

জুলাই সনদ নিয়ে আদালতের রুল জারি এখতিয়ার বহির্ভূত : বদিউল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে আদালতের রুল জারি করা এখতিয়ার বহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, জুলাই সনদ অস্বীকার করা বা এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করা বর্তমান সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গণভোট বাস্তবায়নে নাগরিক ফোরাম আয়োজিত ‘জুলাইয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি : সরকার ও নতুন সংসদের কাছে নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই সনদ রাজনৈতিক ঐকমত্যের দলিল

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জুলাই সনদ একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের দলিল, যা দীর্ঘ আলোচনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতির ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। তাই এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ বা রুল জারি করা আইনগত এখতিয়ারের বাইরে।

তিনি বলেন, “এই সনদ কোনো সাধারণ দলিল নয়; এটি হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একটি রাজনৈতিক ঐকমত্য। একে প্রশ্নবিদ্ধ করা মানে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে অস্বীকার করা।”

গণঅভ্যুত্থান ও সংবিধানের প্রসঙ্গ

সংবিধানের সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেকেই এখন সব সমস্যার সমাধান সংবিধানের ভেতরে খুঁজছেন। কিন্তু বর্তমান সরকার সংবিধানের ভিত্তিতে নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তিতে গঠিত সরকারের অধীনে নির্বাচিত হয়েছে। তাই সমাধানও খুঁজতে হবে জনগণের সার্বভৌম অধিকারের জায়গায়।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা এখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করছেন, তারা কি গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করছেন নাকি ভুলে গেছেন?

আদালতের হস্তক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য

ড. বদিউল আলম বলেন, আইনশাস্ত্রে ‘ডকট্রিন অব পলিটিক্যাল কোশ্চেন’ নামে একটি নীতি রয়েছে, যার মাধ্যমে নীতিগত বা রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়গুলোতে আদালত সাধারণত হস্তক্ষেপ করে না। জুলাই সনদ যেহেতু একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের দলিল, তাই এ বিষয়ে আদালতের রুল জারি করা বা হস্তক্ষেপ করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

তিনি আরও বলেন, যারা এই সনদে স্বাক্ষর করেছেন, তাদের নৈতিক দায়িত্ব হলো আদালতে গিয়ে এই সনদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান

বদিউল আলম সতর্ক করে বলেন, অহেতুক বিতর্ক বা বিভক্তি সৃষ্টি হলে রাজনৈতিক অনৈক্য তৈরি হবে এবং সেই সুযোগে অপশক্তি আবারও সক্রিয় হতে পারে। তাই সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “জনগণ সরাসরি গণভোটে তাদের মতামত দিয়েছে, এটাই চূড়ান্ত। এর সঙ্গে অন্য কিছু গুলিয়ে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টি না করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সরোয়ার তুষার, মঞ্চ-২৪ এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, ব্যারিস্টার ফুয়াদ হোসেন এবং উচ্চ আদালতের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মনিরসহ অন্যান্য বক্তারা।

Source: আমার দেশ অনলাইন

Next News Previous News