যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান: কামাল খারাজি
চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ইরান। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল খারাজি। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর হামলার মাধ্যমে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে, যাতে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই সংঘাত থেকে সরে যেতে প্রভাবিত করে।
সোমবার (৯ মার্চ) তেহরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নাকচ
খারাজি বলেন, এই মুহূর্তে কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের কোনো বাস্তব সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তার দাবি, আলোচনার সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে, ফলে তেহরানের কাছে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা নেই।
তিনি বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্যদের প্রতারিত করেছেন এবং নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। আমরা যখন আলোচনায় যুক্ত ছিলাম, তখনই তারা আমাদের ওপর আঘাত হেনেছে।”
অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমেই যুদ্ধের শেষ
খারাজির মতে, চলমান যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক চাপের কারণেই থামতে পারে। তিনি বলেন, এই সংঘাত ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
তার ভাষায়, যুদ্ধ চলতে থাকলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে এবং তখন অন্যান্য দেশ বাধ্য হবে হস্তক্ষেপ করতে। সেই চাপের মুখেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিশ্ব তেল সরবরাহে বড় প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান র্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এটি ১৯৫৬-৫৭ সালের সুয়েজ খাল সংকটের সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহারের দাবি
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত স্বার্থের ওপর হামলার জন্য তেহরান তাদের সামরিক সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
Source: CNN interview and international media reports.
