উইটকফ-কুশনারের ওপর নির্ভর করছে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত: গার্ডিয়ান
ইরানে সম্ভাব্য হামলার সিদ্ধান্তে উইটকফ–কুশনারের প্রভাব বৃদ্ধি: গার্ডিয়ান
ব্রিটিশ দৈনিক The Guardian-এর এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে যে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে মার্কিন নীতি নির্ধারণে এখন মূল ভূমিকা পালন করছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী Steve Witkoff ও সাবেক হোয়াইট হাউস পরামর্শক Jared Kushner। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রচলিত নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে দু’জন ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক–ব্যবসায়িক উপদেষ্টার ওপরই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেকাংশে নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
কী বলছে গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ?
গার্ডিয়ান জানিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি বিশেষ করে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা চরমে থাকায় হোয়াইট হাউসের ভেতরে প্রভাবশালী অ-প্রাতিষ্ঠানিক উপদেষ্টাদের ক্ষমতা আরও বেড়েছে। স্টিভ উইটকফ দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান রাজনীতিতে অর্থ–সম্পর্কিত প্রভাবশালী একটি নাম এবং জারেড কুশনার ট্রাম্প প্রশাসনের সময় মধ্যপ্রাচ্য নীতি, বিশেষত ইসরায়েল–আরব সম্পর্কের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তাদের পরামর্শই এখন ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ব্যক্তি?
উইটকফ যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট সেক্টরের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হলেও রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে তার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে কুশনার বহুদিন ধরে প্রশাসনের অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ করেছেন। গার্ডিয়ান মনে করে, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা যখন আবারও বাড়ছে, তখন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের পরিবর্তে এই ব্যক্তিগত উপদেষ্টাদের ওপর নির্ভর করা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও অস্বচ্ছ করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে টানাপোড়েন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
ইসরায়েল–ইরান উত্তেজনা ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি বারবার হামলার শিকার হয়েছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের আকাশসীমায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে অ-প্রাতিষ্ঠানিক উপদেষ্টাদের ওপর নির্ভরতা একটি বড় ধরনের সামরিক ভুল বা উত্তেজনা উস্কে দিতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিকতা
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের যেকোনো বৃদ্ধি বৈশ্বিক তেল বাজারে বড় ধাক্কা আনতে পারে। বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় তেলের দামের বৃদ্ধি সরাসরি মুদ্রাস্ফীতি ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়াবে। দেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে পোশাকশিল্প, বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ইরানকে ঘিরে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকি তৈরি করবে।
উপসংহার
গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিনির্ধারণ দুর্বল হয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রাধান্য পাচ্ছে। ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বাড়লেও এ ধরনের পরামর্শদাতাদের প্রভাব বিস্তার ভবিষ্যতের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা আরও জটিল করে তুলতে পারে।
