বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ করতে মিথ্যাচার করা হচ্ছে: তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, প্রমাণবিহীন ও অসত্য তথ্যের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

লিখিত বক্তব্যে যা বললেন

লিখিত বিবৃতিতে তাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গত দুই দিনে কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটরের বরাতে তার সম্পর্কে “বিভ্রান্তিকর ও অসত্য” তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

তার ভাষায়, ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ও প্রসিকিউশন টিম আইনানুগ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন। “আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল নথিভুক্ত ও প্রমাণসমর্থিত,”—বলেন তিনি।

বিচার কার্যক্রমে প্রভাবের অভিযোগ

তাজুল ইসলামের মতে, একটি মহল সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালিয়ে চলমান ও নিষ্পত্তিকৃত মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে চাইছে। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা সংক্রান্ত মামলাগুলো নিয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পরপরই কিছু পক্ষ ভিত্তিহীন অভিযোগ সামনে এনে ট্রাইব্যুনালের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার অপচেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিয়োগ পরিবর্তন ও প্রেক্ষাপট

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদে সম্প্রতি পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম। এ পরিবর্তনকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ঘিরে অতীতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। ফলে এর স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে যেকোনো অভিযোগ হলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে অপপ্রচার বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

তাজুল ইসলাম তার বক্তব্যের শেষাংশে সংশ্লিষ্ট সবাইকে “মিথ্যাচার ও ঘৃণ্য অপতৎপরতা” থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।

Source: Based on written statement provided to media by Mohammad Tajul Islam and local media reports

Next News Previous News