ভেনেজুয়েলা থেকে আমরা ৮০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল পেয়েছি : ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলা থেকে ৮০ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—দাবি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর প্রশাসনের সময় ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলা থেকে “৮০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি” তেল পেয়েছিল। তিনি বলেন, কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও কৌশলগত চাপে কারাকাস বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই দাবির পক্ষে স্পষ্ট পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশিত হয়নি।
কোন প্রেক্ষাপটে দিলেন এই বক্তব্য?
ট্রাম্প এক নির্বাচনী সমাবেশে দাবি করেন, তাঁর প্রশাসন বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে “কৌশলগত পদক্ষেপ” নিয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ভেনেজুয়েলায় তৎকালীন রাজনৈতিক সংকট যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখলেও তিনি “কঠোর অবস্থান” নিয়ে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেন, সেই নীতির ফলেই যুক্তরাষ্ট্র “বিপুল পরিমাণ সস্তা তেল পেয়েছে”।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য মূলত তাঁর জ্বালানি–কেন্দ্রিক কূটনৈতিক সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা। তবে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তেলবাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরেই নিষেধাজ্ঞার কারণে অত্যন্ত সীমিত ছিল। বিশেষ করে ২০১৯ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি PDVSA–র ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
তথ্য কি সমর্থন করে ট্রাম্পের দাবি?
রয়টার্স ও ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভেনেজুয়েলা থেকে ব্যাপক তেল আমদানি করেনি, বরং তৃতীয় দেশের মাধ্যমে সীমিত পরিমাণে কিছু চালান এসেছিল। সেই তেলের পরিমাণ “৮০ মিলিয়ন ব্যারেল”–এর কাছাকাছিও নয় বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, ট্রাম্প হয়তো পরোক্ষ আমদানি, কূটনৈতিক চুক্তি বা বাণিজ্যিক লেনদেন মিলিয়ে মোট পরিমাণকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করেছেন।
এছাড়া ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব শেল অয়েল উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছিল, ফলে দেশটি মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর তুলনামূলক কম নির্ভরশীল ছিল। তাই ট্রাম্পের দাবিকে “রাজনৈতিক বক্তব্য” বলেই আখ্যায়িত করছেন অনেকে।
ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব
ভেনেজুয়েলা সরকার দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে “অর্থনৈতিক যুদ্ধ” বলে আখ্যায়িত করে এসেছে। কারাকাসের অভিযোগ, এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির তেল উৎপাদন ও রাজস্ব প্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ব্যাপক তেল সরবরাহের দাবি—যেমনটি ট্রাম্প করেছেন—ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ তথ্যের সঙ্গে মেলে না।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্ব তেলবাজারে যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে মূল্যপ্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে। বাংলাদেশ আমদানি–নির্ভর জ্বালানি অর্থনীতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের যেকোনো অস্থিরতা দেশে জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন বিতর্কিত দাবি বৈশ্বিক বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনিশ্চয়তা বাড়ায়।
উপসংহার
ট্রাম্পের দাবি রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় হলেও, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত আন্তর্জাতিক তথ্য তা সমর্থন করে না। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তাঁর প্রশাসনের “জ্বালানি সাফল্য” তুলে ধরার প্রচেষ্টা। তবে এই বিতর্ক ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।
