ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পেলেন চবির ৩ নেতা
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখার সাবেক ও বর্তমান তিন নেতা। তারা হলেন সাইদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইব্রাহীম এবং ইব্রাহিম হোসেন রনি। মঙ্গলবার ঢাকায় আয়োজিত কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের প্রথম সাধারণ অধিবেশনে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়।
ছাত্ররাজনীতি, কেন্দ্রীয় কমিটি ২০২৬, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী ছাত্রশিবির— এসব বিষয় ঘিরে ক্যাম্পাস ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে প্রতিনিধিত্ব সংগঠনের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ঢাকায় প্রথম সাধারণ অধিবেশন
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের প্রথম সাধারণ অধিবেশনে নতুন কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম নবনির্বাচিত নেতাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
৩০ সদস্যবিশিষ্ট সম্পাদকীয় কমিটি ও কার্যকরী পরিষদ মিলিয়ে নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম
নতুন কমিটিতে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাইদুল ইসলাম। তিনি পূর্ববর্তী কমিটিতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাইদুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল গবেষণায় অধ্যয়নরত। সংগঠনের ভেতরে তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও একাডেমিক সম্পৃক্ততা তাকে নতুন দায়িত্ব পেতে সহায়তা করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
শিক্ষা সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহীম
মোহাম্মদ ইব্রাহীম কেন্দ্রীয় কমিটিতে শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। তিনি ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাস চবি শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত কমিটির শেষ ছয় মাসও তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শিক্ষা সম্পাদক ছিলেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহীম সংগঠনের শিক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পুনরায় একই দায়িত্ব পাওয়া তার প্রতি নেতৃত্বের আস্থার ইঙ্গিত দেয় বলে বিশ্লেষকদের মত।
কার্যকরী পরিষদে ইব্রাহিম হোসেন রনি
চাকসু ভিপি এবং চবি শাখার বর্তমান সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে এমফিল অধ্যয়নরত।
ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাকে কার্যকরী পরিষদে রাখা হয়েছে বলে সংগঠনের একাধিক নেতা জানান।
ক্যাম্পাস রাজনীতিতে প্রভাব
বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ছাত্রসংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে প্রতিনিধিত্ব সাধারণত সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক প্রভাব বাড়ায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার নেতৃত্ব জাতীয় ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব পাওয়া স্থানীয় শাখার জন্য সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়।
সামনের চ্যালেঞ্জ
শিক্ষাঙ্গনে সহনশীল ও ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা, একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটানো এবং গঠনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা— এগুলোই নতুন নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় কমিটিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নেতার অন্তর্ভুক্তি সংগঠনের ভেতরে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও সম্প্রসারণের একটি ইঙ্গিত বহন করছে। আগামী দিনে তাদের সাংগঠনিক ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
