হাতিয়ায় হান্নান মাসউদের গাড়িবহরে হামলা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রেক্ষাপটে পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ। বুধবার দুপুরে চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, হান্নান মাসউদ, প্রকল্প বাজার— এসব কীওয়ার্ডকে ঘিরেই বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

পরিদর্শনে গিয়ে হামলার অভিযোগ

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পর সংঘটিত সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ নিতে বুধবার দুপুর ১টার দিকে প্রকল্প বাজার এলাকায় যান এমপি হান্নান মাসউদ। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই একদল দুর্বৃত্ত তার গাড়িবহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এমপির সমর্থকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এর পরপরই হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয়পক্ষ সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেয়।

দুই সমর্থক আহত, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি

সংঘর্ষের সময় এনসিপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের দ্রুত হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

তবে সংঘর্ষে আরও কেউ আহত হয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।

এমপির অভিযোগ: ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হামলা’

ঘটনার পর এমপি হান্নান মাসউদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে বেলাল মাঝির নেতৃত্বে ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা’ তার গাড়িবহরে হামলা চালায় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করবেন না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সালে সাবেক এমপি ফজলুল আজিমের ওপর হামলার ঘটনাতেও বেলাল মাঝি জড়িত ছিলেন।

তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের অবস্থান

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা ও স্থানীয় প্রভাব

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা অনেক সময় গ্রামীণ জনপদে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার জন্ম দেয়। প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস ও দখল রাজনীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। হাতিয়ার মতো দ্বীপাঞ্চলে প্রশাসনিক উপস্থিতি তুলনামূলক সীমিত হওয়ায় দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার এলাকায় সংঘর্ষের কারণে দোকানপাট আংশিক বন্ধ হয়ে যায়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ

সন্ধ্যা পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে রাজনৈতিক নেতাদের সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সার্বিকভাবে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার এই ঘটনা হাতিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from দৈনিক ইত্তেফাক

Next News Previous News