মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে আহত শিশুকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত

কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছুটে আসা গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা আফনান (৯)-এর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির মাথায় গুলি আটকে থাকায় ঝুঁকি বেড়েছে এবং উন্নত নিউরো সার্জারি সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি

চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটিকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিশুটিকে ঢাকায় পাঠানো হবে, যাতে সেখানে বিশেষায়িত চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।

বর্তমানে হুজাইফা চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক হলেও সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

অস্ত্রোপচারের বিস্তারিত

চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুনুর রশিদ জানান, শিশুটির মাথায় নিউরো সার্জারির একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল অপারেশন পরিচালনা করলেও গুলিটি মাথার গভীর ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান করায় তা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে এবং সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, ঢাকায় উন্নত নিউরো সার্জারি সুবিধা ও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশুটির অবস্থা আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

ঘটনার পটভূমি

রোববার সকালে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকার তেচ্ছা ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে। মিয়ানমার দিক থেকে ছুটে আসা একটি গুলি হুজাইফা আফনানের মাথায় লাগে। ঘটনার সময় সে বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আহত শিশুটি স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের বড় সন্তান। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে সবার বড় এবং হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

এ ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাঝেমধ্যেই মিয়ানমার সীমান্তের দিক থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়, যা সীমান্তবাসীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তারা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিশুটির মতো নিরীহ মানুষের এমনভাবে আহত হওয়ার ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

উপসংহার

মিয়ানমার দিক থেকে আসা গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা আফনানকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে তার সুস্থতার জন্য দেশবাসী আশাবাদী। একই সঙ্গে এ ঘটনা সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও আবারও তুলে ধরেছে।

Source: Local hospital authorities and regional reports.

Next Post Previous Post

Advertisement