গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত না হলে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে

গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত না হলে দেশ আবার আগের রাজনৈতিক অবস্থায় ফিরে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া কেবল নির্বাচন হলেই গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত হয় না। সংস্কার ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারগুলোর মধ্যেও স্বৈরাচারী প্রবণতা ফিরে আসার ঝুঁকি থেকে যাবে।

রাজধানীতে আয়োজিত এক বিভাগীয় সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, গণভোট ও সংস্কার প্রশ্নে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা না রেখে স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য। তার ভাষায়, ‘হ্যাঁ’ মানে সংস্কারের পথে এগোনো, আর ‘না’ মানে সংস্কার থেকে সরে যাওয়া।

রাজনৈতিক অঙ্গীকার স্পষ্ট করার আহ্বান

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে। কোন দল গণভোটে কী অবস্থান নেবে, তা জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা জরুরি। তিনি মনে করেন, গণভোটে জনগণের সম্মতি ছাড়া বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন টেকসই হবে না।

তার মতে, নির্বাচন কমিশনকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে হবে এবং নির্বাচনে টাকার প্রভাব বন্ধ করা না গেলে সুষ্ঠু ভোট আয়োজন কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

জুলাই জাতীয় সনদ ও সংস্কারের কাঠামো

সংলাপে জানানো হয়, জুলাই জাতীয় সনদের আওতায় মোট ৮৪টি বিষয়ে রাজনৈতিক ও নাগরিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি বিষয়ে গণভোট আয়োজনের কথা রয়েছে এবং বাকি ৩৬টি বিষয় অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এখনই পরিষ্কার হওয়া দরকার বলে বক্তারা মত দেন।

বদিউল আলম বলেন, কেবল সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই গণতন্ত্র সুসংহত হয় না। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সংস্কার অপরিহার্য। এসব সংস্কার বাস্তবায়িত না হলে আগের মতো সংকট আবারও ফিরে আসতে পারে।

অন্যান্য বক্তাদের মতামত

সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও তাদের মতামত তুলে ধরেন। তারা বলেন, রাষ্ট্রকে কল্যাণমুখী করতে শ্রমিকের অধিকার, নারীর অংশগ্রহণ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে ইশতেহারে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টিও সামনে আসে।

কয়েকজন বক্তা বলেন, গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয় না হলে ভবিষ্যতের নির্বাচনও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বর্তমান প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে না পারলে নেওয়া অনেক সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপসংহার

সংলাপে আলোচকদের অভিমত অনুযায়ী, গণভোট ও সংস্কার প্রশ্নটি শুধু রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। জনগণের অংশগ্রহণ ও স্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়া সফল হতে পারে। অন্যথায়, অতীতের মতো অনিশ্চয়তা ও সংকট আবারও ফিরে আসতে পারে বলে সতর্ক করেন বক্তারা।

Source: Jagonews24

Next Post Previous Post

Advertisement