হাদির জন্য দোয়া চাওয়ায় নোয়াখালীতে হামলার শিকার
নোয়াখালীর কাদির হানিফ ইউনিয়নে নামাজের পর বিরোধ, হামলার অভিযোগ
নোয়াখালী, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫: সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজের পর অনানুষ্ঠানিক একটি প্রার্থনা অনুষ্ঠানের কারণে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বাইতুল আমান জামে মসজিদে শুক্রবারই বাদ জুমার নামাজের পর ইমাম হাদিস পাঠ শেষে নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য দোয়া করেন। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কিছু স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থক ও অন্যরা বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। পাক্কা কারণ এখনও স্পষ্ট না থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এ ঘটনায় তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইমাম সাহেব যখন হাদির জন্য বিশেষ দোয়া করেন, তখন কিছু স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী তার ওই কর্মকাণ্ডকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে বাক্যবিতণ্ডা বাড়ে এবং বিরোধ শুরু হয়। এতে প্রতিবাদ জানালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ক্যাডার ও সমর্থকরা কয়েকজনের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয়দের নাম পরিচয় জানা গেছে; তাদের মধ্যে এনায়েত উল্লাহ, মাহফুজ, সোহাগ, জাবেদ প্রমুখ রয়েছেন। এছাড়া নোয়াখালী জেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মি. নুর নবী টিপু সহ অন্যান্য ব্যক্তিরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে তা অনুসন্ধান এবং প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে অনুমান করা হচ্ছে, মূল বিরোধটি ধর্মীয় যথাযথ আচরণ ও স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তুতন্ত্রের কারণে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সদর উপজেলার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায়, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগভুক্তদের সঙ্গে কথা বলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা নেয়ার জন্য নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রেও পাঠানো হয়েছে বলে তারা জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আছে।
স্থানীয় নেতারা বলছেন, ধর্মীয় কাজে অংশ নেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের স্বাধীনতা থাকা উচিত, তবে তা দায়িত্বের সঙ্গে করা জরুরি। একইভাবে, মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও তা শান্তিপূর্ণভাবে মেটিয়ে নেওয়ার ডাকও দিয়েছেন কমিটি সদস্যরা।
ঘটনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ের কর্মকর্তা-জনগণের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়েছে যাতে উত্তেজনা কমে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।
