রাষ্ট্রপতি বললেন ‘বিষয়টি আর জটিল করতে চাই না’
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন পরবর্তী সরকারে জামায়াতে ইসলামী অংশ নিলে এবং সেই সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্বে থাকলে দলটি স্বস্তি বোধ করবে না।
এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং বিষয়টি আরও জটিল না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি নিজেই।
রয়টার্স সাক্ষাৎকারে কী বললেন জামায়াত আমির
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন, সম্ভাব্য ঐক্য সরকার, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান—এমন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির প্রসঙ্গ উঠলে তিনি জানান, জামায়াত যদি ভবিষ্যৎ সরকারে থাকে এবং একই সঙ্গে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে বহাল থাকেন, তাহলে দলটির মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হবে। তবে এই অস্বস্তির সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি।
রাষ্ট্রপতির প্রতিক্রিয়া: মন্তব্যে অনীহা
জামায়াত আমিরের বক্তব্যের বিষয়ে রয়টার্স রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমি আর বিষয়টি জটিল করতে চাই না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির এই অবস্থান একটি কৌশলগত নীরবতা হিসেবেই দেখা যেতে পারে।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে পাঁচ বছরের মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের মধ্যেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আমূল পরিবর্তন করে দেয়।
সরকার পতনের পর রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে, যা জামায়াতসহ কয়েকটি দলের অস্বস্তির কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
পদত্যাগের ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত মাসে রয়টার্সকে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছিলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি চাইলে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত আছেন।
এই বক্তব্যের পর নতুন করে জামায়াত আমিরের মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন তুলেছে—নির্বাচন পরবর্তী রাষ্ট্রপতির অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে কি নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর তাৎপর্য
রাষ্ট্রপতি ও একটি বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যকার এই অবস্থানগত দূরত্ব ভবিষ্যৎ সরকার গঠন এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
সব মিলিয়ে, জামায়াত আমিরের বক্তব্য এবং রাষ্ট্রপতির নীরব প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতারই একটি প্রতিফলন, যা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট রূপ নিতে পারে।
Source: Based on reporting from Reuters and Dhaka Post
