সরকার ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ছে : মিডা চেয়ারম্যান
ঢাকা — মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক গতিপথের জন্য শক্ত ও টেকসই ভিত্তি গড়ার কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নৌপথ, বন্দর ও সমুদ্রসম্পৃক্ত অর্থনীতির উন্নয়ন ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ক্ষমতা বৃদ্ধি। তিনি এই মন্তব্য করেন একটি আন্তঃআঞ্চলিক সংলাপে সভাপতির বক্তৃতায়। 0
ভূমিকা: নীল অর্থনীতি ও সংলাপ
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘সাসটেইনেবল ব্লু ইকোনমি, কানেকটিভিটি ও রেজিলিয়েন্স ফর সাইডস’ শীর্ষক নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান আঞ্চলিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিডা চেয়ারম্যান বলেন, সরকার শুধু বর্তমানের চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার দিকে কাজ করছে। এই কাঠামোতে নীল অর্থনীতি ও সঠিক সংযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 1
তিনি আরও বলেন, Interim সরকার অর্থনৈতিক নীতি, অবকাঠামো নির্মাণ ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে জোর দিচ্ছে, যাতে দেশের স্থায়ী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়। এই স্ট্র্যাটেজির লক্ষ্য বাংলাদেশের অর্থনীতি শুধু দ্রুত বর্ধন না করে, ঝুঁকির মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ হতে হবে। 2
গভীর অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
বর্তমান সময়টা বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশ নির্বাচনের বছরে প্রবেশ করেছে এবং কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়েও নানা মতামত ও বিশ্লেষণ বাজারে আছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি মনে করিয়ে দেয় যে, ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে। 3
অন্যদিকে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্যও ইঙ্গিত দেয় যে বাংলাদেশি অর্থনীতি স্থিতিশীলতার দিকে ফিরছে। রপ্তানি আয়ের বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে, যা অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার সার্থেও ইতিবাচক। 4
নীল অর্থনীতি ও সংযোগযোগ্যতা
মিডা চেয়ারম্যানের মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে “নীল অর্থনীতি” বা ব্লু ইকোনমি একটি গুরুত্বপূর্ণ কন্সেপ্ট হিসেবে উঠে এসেছে, যেখানে সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাপী দেশগুলোতে ব্লু ইকোনমি নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক গঠন সমুদ্রবাহিত শিল্প ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি উপকূলীয় দেশে ব্লু ইকোনমির যথাযথ বাস্তবায়ন দেশকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থানে রাখবে এবং রপ্তানি, পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। 5
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরকারের ভূমিকা
সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও উদ্যোগের পেছনে রয়েছে একটি বৃহত্তর লক্ষ্য — বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চমধ্যম আয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া। এই প্রক্রিয়ায় নৈতিক নীতি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্থানীয় উদ্যোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ বহু স্তরের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শক্ত ভিত্তি গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষম করে তোলা জরুরি, বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে।
বাংলাদেশের জন্য উদ্যোগের গুরুত্ব
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সরকারের উদ্যোগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নীতিগত ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশের জন্য এক বড় প্লাস পয়েন্ট। দীর্ঘমেয়াদে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে পারলে, দেশ পুঁজি আকর্ষণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মতো ক্ষেত্রে আরও অগ্রগামী হতে পারে।
উপসংহার
মিডা চেয়ারম্যানের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, এখন সরকার শুধু স্বল্পমেয়াদি লাভ সম্পর্কে ভাবছে না। বরং একটি টেকসই এবং বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ উভয়কেই সামাল দিতে সক্ষম। এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও প্রবৃদ্ধিশীল ও প্রতিযোগীতাপর সমাজে রূপান্তরিত করতে সহায়ক হবে।
