গণভোটে ‘না’ পাস হলে গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে: নাহিদ ইসলাম
আসন্ন গণভোটে ‘না’ ভোটের ফলাফল গণঅভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দিতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হওয়া উচিত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণভোটের প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত একটি ক্যারাভ্যান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তার বক্তব্যে গণভোটকে শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।
‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলা সব রাজনৈতিক দলের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক শক্তি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, যা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তার ভাষায়, “গণভোটে ‘না’ পাস হলে গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে।”
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি এনসিপিকে ভোট নাও দেন, তবুও দেশের স্বার্থে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তার মতে, এই ভোট কোনো একক দলের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য।
‘না’ ভোটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে শঙ্কা
এনসিপি আহ্বায়ক দাবি করেন, যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, তারা ভবিষ্যতে দেশকে কোন পথে নিতে চান—সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন না। তার আশঙ্কা, ‘না’ ভোট পাস হলে যে রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় আসতে পারে, তারা স্বৈরাচারী প্রবণতার প্রতিনিধিত্ব করবে।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের গণভোট শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়; এটি আগামী কয়েক দশকের জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভিত্তি নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, “এই ভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ৫০ বছরের পথচলা নির্ধারণ করবে।”
প্রশ্নফাঁস ও শাসনব্যবস্থা প্রসঙ্গ
গণভোটের প্রসঙ্গের পাশাপাশি নাহিদ ইসলাম চলমান শাসনব্যবস্থার কিছু দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলেও এ ধরনের অনিয়ম দেখা গেছে। তার মতে, যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট ব্যর্থ হয়, তবে দেশ আবার আগের সেই সমস্যাপূর্ণ ব্যবস্থার দিকেই ফিরে যাবে।
তিনি দাবি করেন, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে গণভোটে ইতিবাচক রায় প্রয়োজন।
দেশব্যাপী প্রচারণা জোরদারের ঘোষণা
অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে দলীয় প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই প্রচারণা অব্যাহত থাকবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দলের অবস্থান আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্ক ও আলোচনাকে আরও তীব্র করতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে গণভোটের ফল এবং এর মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা।
Source: Based on reporting from Bar্তা বাজার
