ক্রীড়াঙ্গনের নির্বাচনও স্থগিত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে প্রভাবমুক্ত রাখতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ফুটবল ও ক্রিকেট বাদে অন্যান্য সব ক্রীড়া ফেডারেশন ও এসোসিয়েশনের নির্বাচন আপাতত বন্ধ থাকছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডহক কমিটির অধীনে পরিচালিত অনেক ফেডারেশনের নির্বাচন প্রক্রিয়া আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

নির্বাচন কমিশন সোমবার এক আদেশে জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের আগে কোনো পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক সংগঠন, বণিক সমিতি কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না। এই নির্দেশনা ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নির্বাচনী প্রস্তুতি থাকলেও থামল কার্যক্রম

৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রায় সব ক্রীড়া ফেডারেশনেই অ্যাডহক কমিটি গঠিত রয়েছে। গত মাসে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) সব ফেডারেশন ও এসোসিয়েশনকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবং খসড়া ভোটার তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

এ ছাড়া আরও কয়েকটি ফেডারেশন নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক ধাপে ছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার ফলে এসব কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গলফ ফেডারেশনের নির্বাচন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্য কোনো ফেডারেশন বা এসোসিয়েশনের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে না।”

এনএসসির সিদ্ধান্ত ও আইনি ব্যাখ্যা

নির্বাচন কমিশনের আদেশ জারির পর সোমবার রাতেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ক্রীড়াঙ্গনের নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও এখন পর্যন্ত গলফ ফেডারেশনসহ সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোর কাছে এ বিষয়ে আলাদা কোনো লিখিত চিঠি পাঠানো হয়নি। তবে এনএসসির কর্মকর্তাদের মতে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর ওপর কার্যকর।

ক্রীড়া প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে যেন কোনো সংগঠনের নির্বাচন রাজনৈতিক প্রভাব বা বিতর্কের জন্ম না দেয়, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, একই সময়ে একাধিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া থাকলে প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে বৈঠক ও অবকাঠামো সংকট

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ১১টি ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে সেপাক টেকরো, রাগবি, বেসবলসহ কয়েকটি ফেডারেশন তাদের অফিস কক্ষের সংকটের কথা তুলে ধরে। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নবনিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক দৌলতুজ্জামান খান এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, মওলানা ভাসানী স্টেডিয়াম, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরনো ভবন এবং জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে অব্যবহৃত ও অতিরিক্ত কক্ষগুলো চিহ্নিত করা হবে। পরে সেগুলো সংশ্লিষ্ট ১১টি ফেডারেশনের মধ্যে বণ্টনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন স্থগিতের ফলে স্বল্পমেয়াদে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হলেও জাতীয় নির্বাচন শেষে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে দীর্ঘদিন অ্যাডহক কমিটির অধীনে থাকা ফেডারেশনগুলোর ক্ষেত্রে এটি নতুন করে চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট শেষ হওয়ার পর ক্রীড়াঙ্গনের নির্বাচন কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলো তাই নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement