ভারতীয় সেনাপ্রধানের মন্তব্য:অপারেশন সিঁদুর এখনো কার্যকর ,পাকিস্তানের চাপ অব্যাহত

ঢাকা — ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন, অপারেশন সিঁদুর শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয় বরং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে অব্যাহত রয়েছে। তিনি এই মন্তব্য করেছেন সাম্প্রতিক বার্ষিক পত্রিকার সময় এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারে, যেখানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। 0

অপারেশন সিঁদুর—কি, কেন ও কী পরিস্থিতি?

অপারেশন সিঁদুরটি ২০২৫ সালের মে মাসে শুরু হয় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এক কঠোর সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে। ভারত দাবি করে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর উপস্থিতি ও হামলার পরিকল্পনার ভিত্তিতে এই অভিযানের আঘাত সাধন করা হয়েছিল। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান ও ভূমি বাহিনী ব্যবহৃত হয় এবং কয়েক দিনের কঠোর লড়াই শেষে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। 1

ভারতীয় সেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী পূর্বের একটি বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, “অপারেশন সিঁদুর চলমান”—এতে বোঝানো হয় যে এটি শুধু একটি সীমিত অভিযান ছিল না, বরং নিরাপত্তা ও কৌশলের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে বজায় আছে। তিনি বলেন, ভারত অন্যান্য প্রয়োজনে আবারও এই অপারেশন বা একই কৌশল চালাতে পারে যদি সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্ত উদ্বেগ থেকে সংকটে পরিণত হয়। 2

সেনাপ্রধানের সতর্ক বার্তা

দ্বিবেদী আরও সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের সেনাবাহিনী যে প্রস্তুতি ও সক্ষমতা দেখিয়েছে তা ভবিষ্যতে প্রয়োগের জন্যও প্রস্তুত। তিনি বিদেশ ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে বলেছেন যে, অপারেশন সিঁদুর “পূর্ণাঙ্গভাবে বন্ধ নয়”—এটি কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায়ে দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখার একটি রূপ। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও সংশ্লিষ্ট ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম’ এখনও সমস্তভাবে নিবারণ হয়নি। 3

এই অপারেশনের প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া

অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণের প্রতিবেদন রয়েছে, যদিও পাকিস্তান এই ঘটনার ব্যাখ্যা অনেকাংশে অস্বীকার করেছে। সংঘর্ষের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাবর্ষণের ঘটনা ও বেসামরিক নাগরিক Casualty-র মতো দিকগুলো আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। 4

বিশ্লেষকদের মন্তব্য অনুযায়ী, যদিও সরাসরি যুদ্ধ স্থগিত হয়েছে, নিরাপত্তা ও প্রতিরোধের বিষয়গুলো এখনও উভয় পক্ষের কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধানের মন্তব্য অপারেশন সিঁদুরকে একটি ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি ও বাধা হিসেবেও দেখা যাচ্ছে—যা শুধুমাত্র গত সমস্যার প্রতিক্রিয়া নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ। 5

আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রভাব

ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক মূলত সীমান্ত, কাশ্মীর ও সন্ত্রাসবিরোধী নীতির মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে টানাপোড়েনের মধ্যে আছে। সামরিক উচ্চ সতর্কতা, বিশেষ অভিযান বা এধরনের ক্রিয়াকলাপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে—যা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন যে, রাজনৈতিক সমঝোতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এমন পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। 6

উপসংহার

ভারতীয় সেনাপ্রধানের ‘অপারেশন সিঁদুর চলমান’ মন্তব্য থেকে দেখা যায় যে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো উভয় পক্ষের মনে এখনো পূর্ণভাবে টলমল করছে। এই অপারেশন কেবল একটি সামরিক অভিযান হিসেবেই নয় বরং বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারকারী নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক রাজনীতি ও সম্পর্ককে নিরূপণ করবে।

Next Post Previous Post

Advertisement