যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অবস্থানরত নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে
ঢাকা — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার সম্প্রতি ইরানে অবস্থানরত তার নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে একটি নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করেছে, কারণ ইরানের অভ্যন্তরে বিশাল বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস এই নির্দেশনা জানিয়েছে তেহরানে অনুমোদিত কোনো স্থায়ী দূতাবাস ছাড়াই কাজ করছে। 0
ভয়াবহ বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বিপন্নতা
ইরানের বিভিন্ন শহরে গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলো সরকার বিরোধী মনোভাবের সাথে দ্রুত বড় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এই বিক্ষোভে সহিংস সংঘর্ষ, ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং জনজীবনে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের সেখান থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। 1
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরানের লক্ষ্যবস্তুর কাছে থাকা মার্কিন নাগরিকরা স্বতন্ত্রভাবে নিরাপদ পরিকল্পনা করে দেশ ছাড়তে হবে এবং ওয়াশিংটন বিনাপ্রার্থনা কোনো সহায়তার ওপর নির্ভর না করেই নিরাপদ পথে বেরিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। 2
পরিসংখ্যান ও যাত্রা বাধা
ইরানের স্বশাসিত প্রচারমাধ্যমগুলো রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার অভাবে বিক্ষোভে প্রচুর মানুষ জড়িত থাকার দাবি করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশজুড়ে বিক্ষোভের সময় সহিংসতা ও মৃত্যুর সংখ্যা কয়েকশো ছাড়িয়ে যেতে পারে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন। বিক্ষোভের কারণে সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাপকভাবে অচল। 3
এর প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক বিমান ইরানের ফ্লাইটগুলো বাতিল বা স্থগিত করেছে, যা নাগরিকদের দেশ ছাড়ার পথ আরও কঠিন করে তুলছে। তাই সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন কেউ নিরাপদভাবে পাড়ি জমাতে পারলে, আরমেনিয়া বা তুরস্কের মতো বিরোধী সীমান্ত পথে দেশটি ত্যাগ করার কথা বিবেচনা করেন। 4
দ্বৈত নাগরিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান দ্বৈত নাগরিকদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে যে, তারা ইরান সরকারের কাছে কেবল ইরানি নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং মার্কিন পাসপোর্ট প্রদর্শনের ফলে গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই নিরাপদে দেশ ত্যাগ করতে তারা ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করাও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 5
ডিপ্লোম্যাটিক সীমাবদ্ধতা
যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের মধ্যে কোনো স্থায়ী দূতাবাস বা কনসুলেটিক সম্পর্ক নেই, ফলে মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত। এই অবস্থায় সুইজারল্যান্ডের দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করছে, কিন্তু তাতেও সীমাবদ্ধ সহায়তা প্রদান সম্ভব। এই পরিস্থিতি বিপজ্জনক হলে নাগরিকদের দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে দেশ ছাড়ার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। 6
বাংলাদেশি পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিকতা
বাংলাদেশের মতো দেশের নাগরিকদের জন্য এ ধরনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা বিদেশে কাজ বা ভ্রমণে থাকেন। ইরানের মতো স্থানে অবস্থানকারীদের জন্য এই ধরনের সতর্কতা জীবন রক্ষাকারী হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও বিদেশে নাগরিকদের নিরাপত্তা সম্বন্ধে নিয়মিতভাবে স্থানীয় সংবাদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসরণ করাই যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে উপযোগী।
উপসংহার
ইরানের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার নাগরিকদের জন্য এক জরুরি নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করেছে, যেখানে দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ রয়েছে। পরিস্থিতি ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
