হাদির খুনিদের বিচার না হলে রাষ্ট্রকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের (ইসআমব) কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ শুক্রবার জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্রে চলমান বিচারহীনতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। তিনি সতর্ক করে বলেন, হাদির খুনিদের বিচার না হলে রাষ্ট্রকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বাইতুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে, যেখানে আধিপত্যবাদবিরোধী পদযাত্রা ও সমাবেশের মাধ্যমে এই বক্তব্য প্রদান করা হয়। মুনতাছির আহমাদ বলেন, “জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই আজকের রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত। যদি সেই রাষ্ট্রেই শহীদ হাদির হত্যার বিচার না হয়, তাহলে রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য করা হবে এবং সেই দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।”
বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দেশের সার্বভৌমত্ব
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফেলানী থেকে আবরার ফাহাদ হয়ে শহীদ ওসমান হাদি—বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের স্বার্থে তরুণদের আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পদযাত্রার কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, “৫ আগস্ট ২৪-এর পর যারা সুশীল কথাবার্তা বলতেন, আজ শহীদ হাদি ইস্যুতে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। হাদিকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ও রাজপথে ছিলেন, আগামী দিনে জনগণ তাদেরই সমর্থন জানাবে।”
নির্বাচন কমিশনের মন্তব্যে নিন্দা
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনারের অযাচিত মন্তব্যেরও নিন্দা জানানো হয়। তারা বলেন, “এমন অথর্ব নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করা যায় না। অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব খুনিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, নাহলে জনগণ রাজপথেই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।”
সমাবেশে উপস্থিত গুরুত্বপূর্ণ নেতারা
পদযাত্রা ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইসআমব-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন ইবনে সরোয়ার ও ইমরান হোসাইন নূর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলীল, তথ্য-গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্পাদক কামরুল ইসলাম, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ইউসুফ পিয়াস, দফতর ও যোগাযোগ সম্পাদক আশিক মাদবর, প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ মাহদী ইমাম, পরিকল্পনা ও পাঠাগার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম খান লিখন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক ইব্রাহিম নাসরুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক তুহিন মালিক, কওমি মাদরাসা সম্পাদক সাঈদ আবরার, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আব্দুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য তানভীর আহমেদ শোভন এবং বি এম মাহদী আল হাসান প্রমুখ নেতারা।
উপসংহার
শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি ও ন্যায্য প্রতিকার নিশ্চিত না হলে দেশের নৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। মুনতাছির আহমাদ ও ইসআমব-এর অন্যান্য নেতারা সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন, জনগণ স্বয়ং দায়িত্ব নিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হতে পারে।
Source: Based on reporting from Jagonews24
