ইরানের ক্রাউন প্রিন্সকে সমর্থন প্রদানের প্রশ্নে যা বললেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাসিত ইরানি ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভিকে একজন চমৎকার ব্যক্তি মনে করেন তিনি। তবে চলমান ইরানি সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে সমর্থন দেবেন কি না—এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প।
গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন পডকাস্টার হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, রেজা পাহলভির সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তাকে একজন চমৎকার মানুষ মনে হয়েছে; কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে সমর্থন দেওয়া সঠিক হবে কি না—সেটি নিয়ে আমি নিশ্চিত নই।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের উচিত সবাইকে সেখানে যেতে দেওয়া এবং পরে দেখা যাক কার উত্থান ঘটে। এখনই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সমর্থন দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে কি না, তা নিয়ে আমি দ্বিধাগ্রস্ত।”
ইরানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রেজা পাহলভি, যিনি বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্বাসিত, সম্প্রতি ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন। তিনি জনগণকে আন্দোলন আরও বড় ও সুশৃঙ্খল করার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের আগে, ১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য গিয়েছিলেন রেজা পাহলভি। বিপ্লবের পর তিনি আর দেশে ফিরে যাননি। তার বাবা, মোহম্মদ রেজা শাহ পাহলভি, ছিলেন ইরানের শেষ শাহ। ১৯৮০ সালে কায়রোতে নির্বাসিত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পিতার মৃত্যুর পর রেজা পাহলভিকে ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ট্রাম্পের অবস্থান
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে প্রস্তুত নয়। এমন সময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সমর্থন দেওয়া কূটনৈতিক দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানি আন্দোলনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণকে তীব্র করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্সের প্রতি সমর্থনের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিলে এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব পড়তে পারে।
উপসংহার
রেজা পাহলভি ও ইরানের চলমান আন্দোলন নিয়ে ট্রাম্পের দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ ছাড়া সরাসরি কোনো সমর্থন প্রদান করতে চাচ্ছে না। আগামী দিনে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর এই দ্বিধার প্রভাব আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
Source: Based on reporting from Iran International
