ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রদল-গণঅধিকারের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সরকারি অফিস নির্ধারিত সময়ের বাইরে খোলা রাখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও গণঅধিকারপন্থী নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. নুরুন্নবী সরকার–এর কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং অন্তত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অফিস কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলার কথা। কিন্তু মঙ্গলবার রাত ৯টার পরও পিআইও কার্যালয় খোলা ছিল। বিষয়টি জানতে চাইতে কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী কার্যালয়ে যান। এ সময় অফিসে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের একটি কক্ষে আটকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।

আহত ও চিকিৎসা

এই ঘটনায় রাণীশংকৈল ছাত্রদলের কলেজ কমিটির সভাপতি আতিক এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা মামুনুর রশিদ মামুন আহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারি বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, তবে ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং কীভাবে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পিআইওকে ঘিরে আগের অভিযোগ

উপজেলা পিআইও মো. নুরুন্নবী সরকারকে ঘিরে এর আগেও নানা অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অফিসে ধূমপানসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। এর আগে তার অপসারণ দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেছিলেন।

এ ছাড়া, প্রকল্প বণ্টন নিয়ে এক ইউপি সদস্যকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে, যা জেলা জুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

স্থানীয় প্রভাব ও বিশ্লেষণ

স্থানীয় প্রশাসনিক অফিসে রাত পর্যন্ত কার্যক্রম চালানো এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ নতুন করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলা শহরগুলোতে স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের এমন সংঘর্ষ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি না হলে তা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Source: Based on reporting from local correspondents, police statements, and regional media sources.

Next News Previous News