পুরো ইউক্রেন দখলের লক্ষ্য এখনো বাদ দেননি পুতিন, চান ইউরোপের অংশও

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনো ইউক্রেনের পুরো ভূখণ্ড দখলের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। শুধু তাই নয়, ইউরোপে অবস্থিত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কিছু অঞ্চলের প্রতিও তার আগ্রহ রয়ে গেছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। মার্কিন গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

এই মূল্যায়ন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন প্রায় তিন বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা। তবে গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার কৌশলগত লক্ষ্য এখনো আংশিক নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা প্রস্তুত করা গোয়েন্দা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে—পুতিন ইউক্রেনের অবশিষ্ট অংশ দখলের ইচ্ছা ত্যাগ করেননি। একই সঙ্গে ইউরোপে অবস্থিত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কিছু ভূখণ্ডকেও রাশিয়ার প্রভাব বলয়ে ফেরানোর লক্ষ্য তার কৌশলের অংশ। এসব গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সর্বশেষটি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রস্তুত করা হয়।

পুতিন প্রকাশ্যে দাবি করে আসছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য রাশিয়া কোনো হুমকি নয়। তবে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে সেই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি। বরং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সামরিক ও রাজনৈতিক পরিকল্পনা ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতার পথ খুঁজছে। ওয়াশিংটনের ধারণা, যুদ্ধ থামাতে গেলে পুতিনকে তার চাওয়া পূর্ণমাত্রায় না পেলেও কিছু ছাড় দিতে হতে পারে। তবে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, কোনো সাময়িক সমঝোতা হলেও পুতিনের মূল কৌশলগত লক্ষ্য বদলানোর ইঙ্গিত নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাটিক সদস্য মাইক কুইগলে রয়টার্সকে বলেন, “গোয়েন্দা তথ্য বছরের পর বছর একই কথা বলছে—পুতিন আরও ভূখণ্ড চান। ইউরোপীয়রা এটা বোঝে। পোল্যান্ডের মানুষ বোঝে। বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো মনে করে, তাদের ওপরই প্রথম হামলা আসতে পারে।”

বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। তিন বছরের কাছাকাছি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। এর মধ্যে দনবাস অঞ্চলের বড় একটি অংশ রয়েছে, যেখানে রুশ বাহিনীর অবস্থান সবচেয়ে শক্ত।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, পুতিন দনবাস পুরোপুরি দখল করতে চান। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই ভূখণ্ড ছাড় দিয়ে সমঝোতায় যাবেন না। কিয়েভের এই অবস্থান যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইউরোপের জন্য কী বার্তা

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের এই তথ্য ইউরোপের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ইউক্রেন যুদ্ধ কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়; বরং এটি ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপ ও বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো রাশিয়ার ভবিষ্যৎ অভিপ্রায় নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক চেষ্টা চললেও গোয়েন্দা মূল্যায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে—রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতের মূল রাজনৈতিক ও ভূখণ্ডগত দ্বন্দ্ব এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

Source: Based on reporting from Reuters

Next Post Previous Post

Advertisement