সুদানে মার্কেটে ড্রোন হামলায় ১০ জন নিহত

সুদানের দক্ষিণ দারফুর অঞ্চলের একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় বাজারে স্বাভাবিক কেনাবেচা চলছিল। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যে এ ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দক্ষিণ দারফুরের মালহা শহরের আল-হারা মার্কেটে এই হামলা ঘটে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন নর্থ দারফুর ইমার্জেন্সি রুমস কাউন্সিল। রোববার রাতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পরপরই বাজারের একাধিক দোকানে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়।

হামলার দায় কার—অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে

নর্থ দারফুর ইমার্জেন্সি রুমস কাউন্সিল জানায়, বাজারটি বর্তমানে প্যারামিলিটারি র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ) নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত। তবে তারা স্পষ্ট করে বলেনি, হামলাটি সেনাবাহিনী, আরএসএফ কিংবা অন্য কোনো পক্ষ চালিয়েছে। এই অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সুদানে চলমান সংঘাতে উভয় পক্ষই ড্রোন ও ভারী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক এলাকায় এমন হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি

২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নেয়। এরপর থেকে দেশজুড়ে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বিশেষ করে দারফুর অঞ্চল সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। এখানে নিয়মিতভাবে বেসামরিক মানুষ হামলা, লুটপাট ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার শিকার হচ্ছে। সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মানবিক সংকট আরও গভীর

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে সুদানে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বাজারের মতো জনবহুল স্থানে হামলা সাধারণ মানুষের জীবিকা ও নিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে। “বেসামরিক জনগণই এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী,” বলেন এক স্থানীয় অধিকারকর্মী।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ

যদিও এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে এখনো কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে সামগ্রিকভাবে সুদানের পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তারা বারবার যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।

দক্ষিণ দারফুরের বাজারে ড্রোন হামলার ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল—সুদানের সংঘাত শুধু সামরিক নয়, বরং একটি গভীর মানবিক সংকট, যার দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement