বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা-গুলিবর্ষণ, বিএনপির সাবেক এমপি কারাগারে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ শহীদ সারোয়ারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (২১ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতি ও সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর–তারাকান্দা) আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য রোববার দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালতের ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. সিফাত উল্লাহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রাথমিকভাবে গুরুতর বিবেচনা করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও মামলার অবস্থা
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় জামিনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) শেখ মো. মোস্তাসিনুর রহমান বলেন, “বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
আইনজীবী সূত্র বলছে, মামলাটি এখন তদন্তাধীন থাকলেও আদালত অভিযোগের গুরুত্ব এবং ঘটনার প্রকৃতি বিবেচনায় আসামিকে হেফাজতে রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখেছেন।
কীভাবে মামলাটি শুরু হয়
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল মো. আমীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়িয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২৩ জুন আদালতের নির্দেশে ফুলপুর থানা পুলিশ মামলাটি নিয়মিত এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন ফুলপুর পৌর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শাহ শহীদ সারোয়ারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় মামলার বাদী মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
ছাত্র আন্দোলন ও সহিংসতা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আলোচিত হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া ও কর্মসূচিকে ঘিরে কিছু এলাকায় সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, আন্দোলন দমনে সহিংসতা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ থাকলে তা কঠোরভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি। এতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে সহিংসতার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।
শাহ শহীদ সারোয়ারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
শাহ শহীদ সারোয়ার ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম শামছুল হককে পরাজিত করে ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিলেও তিনি পরাজিত হন।
সর্বশেষ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ডামি নির্বাচনে তিনি ঈগল প্রতীকে অংশ নেন। এ কারণে বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিরও সাবেক সদস্য ছিলেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী
আদালত সূত্র জানায়, তদন্ত অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এদিকে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করার প্রস্তুতি নিতে পারে বলে জানা গেছে।
এই মামলাটি শুধু একজন সাবেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; বরং ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইনের শাসন নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
Source: Based on reporting from local Bangla news portals
