তারেক রহমানকে কটাক্ষ করে ফেসবুকে পোস্ট, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আল-হেলাল একাডেমির প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুককে শোকজ করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সীমা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন আল-হেলাল সোসাইটির সেক্রেটারি ও সোনাগাজী পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মহসিন ভূঞা। তিনি জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শোকজ নোটিশ ও প্রতিষ্ঠানের অবস্থান

আল-হেলাল সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন অভিযোগ ওঠায় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। মহসিন ভূঞা বলেন, “প্রধান শিক্ষক নিজেও বিষয়টি অনুধাবন করেছেন এবং বিতর্কিত পোস্টটি মুছে ফেলেছেন।”

তবে শোকজের নোটিশে কী ধরনের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বা কত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে হবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক মন্তব্যের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশনা রয়েছে।

বিএনপির অপসারণ দাবি

এদিকে, প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সোনাগাজী পৌর বিএনপি। দলটির আহ্বায়ক মঞ্জুর হোসেন বাবর ও সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একজন শিক্ষকের এ ধরনের রাজনৈতিক কটাক্ষ গ্রহণযোগ্য নয়।

মঞ্জুর হোসেন বাবর অভিযোগ করেন, ওমর ফারুক অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিদ্যালয় পরিচালনায় অনিয়ম করে সম্পদের মালিক হয়েছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত বা আদালতের রায়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন বলেন, “একজন প্রধান শিক্ষক প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।” তিনি দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও দেখা গেছে, যেখানে কেউ কেউ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শিক্ষকদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

শিক্ষা ও রাজনীতির সীমারেখা

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত মত প্রকাশের অধিকার থাকলেও তা যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন না করে—এটি নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মন্তব্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুকের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শোকজের জবাবের পরই তার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Source: Based on reporting from local Bangla news portals

Next Post Previous Post

Advertisement