হাদির মৃত্যুতে কমনওয়েলথের শোক প্রকাশ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে কমনওয়েলথ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি। শনিবার এক বিবৃতিতে কমনওয়েলথের মহাসচিব শির্লে বোচওয়ে নিহত হাদির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আইনের শাসন ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

ঢাকা, বাংলাদেশ, হাদি হত্যা, কমনওয়েলথ প্রতিক্রিয়া—এই বিষয়গুলো শনিবার দেশ-বিদেশে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণ মুখপাত্রের মৃত্যু শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

কমনওয়েলথ মহাসচিবের বক্তব্য

বিবৃতিতে শির্লে বোচওয়ে বলেন, “শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে আমি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের শোকের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি এবং তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার পর বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।

কমনওয়েলথ মহাসচিব আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেওয়া বক্তব্যকে স্বাগত জানান তিনি, যেখানে সহিংসতায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সংযম ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সংকটময় সময়ে সংযম, দায়িত্বশীল আচরণ এবং ঘৃণা পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। শান্তি বজায় রাখা এবং সর্বোচ্চ ধৈর্য ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনের যে আহ্বান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়েছে, তাতে কমনওয়েলথও সংহতি প্রকাশ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রত্যাশার প্রতিফলন, যেখানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

হাদির মৃত্যু: ঘটনার পটভূমি

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে সংঘটিত এক সহিংস ঘটনায় শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। টানা এক সপ্তাহ জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর গত বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর তিনি সেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এরপর শুক্রবার তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয়। শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।

বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক বার্তা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কমনওয়েলথের এই প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বার্তা বহন করছে। এটি কেবল শোক প্রকাশ নয়, বরং আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রত্যাশার কথাও স্পষ্ট করে। তারা মনে করছেন, হাদির মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

হাদির মৃত্যু ঘিরে যে শোক ও প্রতিবাদের আবহ তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির দাবি আরও জোরালো করে তুলেছে।

Source: Based on reporting from Amar Desh Online

Next Post Previous Post

Advertisement