ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি মির্জা ফখরুলের

লক্ষ্মীপুরে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের ৮ বছর বয়সী কন্যা আয়েশা আক্তার সানজুর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এই নৃশংস ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তাইফুল ইসলাম টিপুর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারাও শোক প্রকাশ করেছেন।

অগ্নিকাণ্ডে শিশুর মৃত্যু ও পরিবারের ট্র্যাজেডি

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সুতারগোপ্তা এলাকায় শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বেলাল হোসেনের বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে তার শিশু কন্যা আয়েশা আক্তার দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। এ সময় বেলাল হোসেন ও তার অন্য দুই কন্যা বীথি আক্তার ও স্মৃতি আক্তার গুরুতর দগ্ধ হন। আহতদের মধ্যে দুই কন্যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে, আর বেলাল হোসেন চিকিৎসাধীন রয়েছেন সদর হাসপাতালে।

‘এটি একটি নৃশংস ও অমানবিক ঘটনা’ — মির্জা ফখরুল

শোকবার্তায় মির্জা ফখরুল বলেন, “দুর্বৃত্তদের অগ্নিসন্ত্রাসে শিশু আয়েশার অকাল মৃত্যু এবং অপর দুই বোনসহ বেলাল হোসেনের গুরুতর আহত হওয়ার নির্মম ঘটনায় শোক জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এটি একটি জঘন্য, অমানবিক ও কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা।”

তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনা দেশব্যাপী বিরোধী রাজনৈতিক মত দমনের ধারাবাহিকতারই বহিঃপ্রকাশ। এটি প্রমাণ করে দেশে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।”

দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে আহ্বান

বিএনপি মহাসচিব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই পৈশাচিক ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি নিহত শিশু আয়েশার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

এদিকে বিকেলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক হাছিবুর রহমানও পৃথক বিবৃতিতে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের দাবি

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা শত্রুতার কারণে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, শিশু আয়েশার মৃত্যুর মতো নির্মম ঘটনায় দায়ীদের বিচার না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা বাড়বে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকা শোকাভিভূত হয়ে পড়েছে। গ্রামে এখনো পোড়া ঘরের ধোঁয়া আর শোকের ছায়া মিলেমিশে আছে মানুষের চোখের জলে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement