হাদির কফিন সামনে রেখে আজীবন প্রতিরোধের শপথ নিলেন অনুসারীরা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজার আগে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় আবেগঘন পরিবেশে আগ্রাসন ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন তার অনুসারীরা। শনিবার দুপুরে জানাজা শুরুর পূর্ব মুহূর্তে কফিন সামনে রেখে এই শপথের দৃশ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সমবেত অনুসারীদের অনেককে এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। আবেগ, ক্ষোভ ও প্রত্যয়ের মিশ্রণে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যা পুরো এলাকায় শোক ও প্রতিবাদের আবহ তৈরি করে। হাদির মৃত্যু ঘিরে জনসমাগম ও প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দেয়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি কীভাবে একটি বড় অংশের মানুষের কাছে প্রতীকী চরিত্রে পরিণত হয়েছিলেন।

কফিন সামনে রেখে শপথ ও আবেগঘন মুহূর্ত

শহীদ ওসমান হাদির কফিন সামনে রেখে অনুসারীরা বলেন, “শহীদের কফিন সামনে আমাদের শপথ— আমরা আগ্রাসন ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে আজীবন লড়ে যাবো।” তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন হাদির আত্মত্যাগ কবুল করা হয় এবং তাদেরকেও ন্যায় ও প্রতিরোধের পথে অবিচল থাকার শক্তি দেওয়া হয়।

এই শপথের সময় উপস্থিত অনেকেই বলেন, হাদির মৃত্যু তাদের আন্দোলনের পথ থেকে সরিয়ে দিতে পারেনি; বরং তা সংগ্রামের দায় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের ভাষায়, এই শপথ শুধু একজন ব্যক্তির স্মরণে নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের প্রকাশ।

স্লোগান ও রাজনৈতিক বার্তা

জানাজার আগে সমবেত জনতা বিভিন্ন স্লোগান দেয়, যেখানে হাদির আত্মত্যাগকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। স্লোগানগুলোতে তার রক্ত বৃথা যেতে না দেওয়ার অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যতেও প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্লোগান ও শপথ সাম্প্রতিক সময়ের রাজনীতিতে আবেগভিত্তিক সক্রিয়তার একটি প্রতিফলন। হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে ভাষা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা আগামী দিনে রাজপথের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

‘সাংস্কৃতিক লড়াই’ সম্পন্ন করার প্রত্যাশা

অনুসারীরা জানান, শহীদ ওসমান হাদি যে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু করেছিলেন, তা পূর্ণতা দেওয়াই এখন তাদের প্রধান দায়িত্ব। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে— এই লড়াই কেবল ক্ষমতার রাজনীতি নয়, বরং চিন্তা, ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত।

তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হাদি যে অবস্থান নিয়েছিলেন, তা ভবিষ্যতেও বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

হাদির মৃত্যু ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

শরিফ ওসমান হাদি জুলাই বিপ্লবের পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। তার বক্তব্য, আন্দোলন ও সংগঠনের ভূমিকা তাকে সমর্থক ও সমালোচক— উভয় পক্ষের কাছেই আলোচিত করে তোলে। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় শোক পালন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শোকবার্তা এবং জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখিয়ে দেয়— হাদি কেবল একটি সংগঠনের নেতা ছিলেন না, বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের একটি শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

উপসংহার

মানিক মিয়ায় কফিন সামনে নেওয়া শপথ হাদির মৃত্যু-পরবর্তী আবেগের বহিঃপ্রকাশ হলেও, এর রাজনৈতিক তাৎপর্য দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। অনুসারীদের এই অঙ্গীকার ভবিষ্যতে কীভাবে বাস্তব রূপ পায়, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।


Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র

```
Next Post Previous Post

Advertisement