বিএনপি থেকে বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন রুমিন ফারহানা

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিল করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন দলটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা। বহিষ্কারের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি একে নিজের রাজনৈতিক জীবনের “অদ্ভুত ও বেদনাদায়ক অধ্যায়” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনেই বহিষ্কারের আদেশ পাওয়াকে তিনি গভীর মানসিক আঘাত হিসেবে দেখছেন।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন রুমিন ফারহানা। তিনি জানান, দল থেকে বহিষ্কার হলেও আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।

খালেদা জিয়ার আদর্শের কথা স্মরণ

রুমিন ফারহানা বলেন, রাজনীতিতে আপস না করে একা দাঁড়িয়ে যাওয়ার শিক্ষা তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছ থেকেই পেয়েছেন। তাঁর ভাষায়, যাঁর আদর্শে রাজনীতি করেছেন এবং যাঁর স্নেহ ও আশ্রয়ে রাজনৈতিকভাবে গড়ে উঠেছেন, তাঁর মৃত্যুর দিনেই দলীয় বহিষ্কার—এটি নিছক কাকতালীয় নয় বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমি আমার রাজনৈতিক অভিভাবককে হারিয়েছি। যার আদর্শে রাজনীতি করেছি, উজ্জীবিত হয়েছি এবং অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করেছি—তিনি আজ চলে গেলেন। তাঁর চলে যাওয়ায় দেশ ও দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।”

মনোনয়ন না পাওয়ার প্রসঙ্গ

রুমিন ফারহানা জানান, খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে শেষ দিকের এক আলোচনায় মনোনয়ন প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, ২০ নভেম্বর খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসন জানতে চেয়েছিলেন, কেন তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

এই প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি শুধু এইটুকুই বলব—মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন।”

‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ার ব্যাখ্যা

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াকে রুমিন ফারহানা আপসহীনতার উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া মানে জোয়ারের বিপরীতে একা দাঁড়িয়ে যাওয়ার সাহস।

তিনি বলেন, “আপস না করে একা দাঁড়িয়ে যাওয়ার শিক্ষা আমি আমার নেত্রীর কাছ থেকেই শিখেছি। আজ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটিও সেই শিক্ষারই প্রতিফলন।”

বিএনপির সিদ্ধান্ত ও বহিষ্কার

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে মঙ্গলবার রুমিন ফারহানাসহ মোট নয়জন নেতাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের প্রেক্ষাপট

এর আগে গত সোমবার রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ওই আসনে বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে সমর্থন দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বিএনপির জোট রাজনীতি এবং দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রুমিন ফারহানার বহিষ্কার শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি আগামী নির্বাচনে বিএনপির ভেতরের চ্যালেঞ্জগুলোকেও সামনে এনে দিয়েছে।

রাজনীতিতে এর তাৎপর্য

বিএনপির একজন পরিচিত মুখ ও সংসদে দলের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত রুমিন ফারহানার বহিষ্কার দলটির ভেতরের মতপার্থক্যকে স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে তাঁর অনড় অবস্থান দেখাচ্ছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

Source: Based on reporting from Amar Desh Online

Next Post Previous Post

Advertisement