প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সরকার গঠন ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাব্য নাম নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি কোনো ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার প্রশ্ন নয়; বরং এটি নির্ভর করবে নির্বাচনের ফলাফল এবং দলগুলোর ঐকমত্যের ওপর।

রয়টার্স বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে। সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ, সম্ভাব্য ঐক্য সরকার এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

ঐক্য সরকার গঠনে আগ্রহ

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জেন-জিদের দল হিসেবে পরিচিত এনসিপির সঙ্গে জোট গঠনের পর জামায়াত আমির নিজের কার্যালয়ে বসে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী আগামী নির্বাচনের পর দেশে একটি ঐক্য সরকার গঠনে আগ্রহী।

তার ভাষায়, “আমরা অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র দেখতে চাই। যদি সব রাজনৈতিক দল এগিয়ে আসে, আমরা একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করবো।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে জামায়াতের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রশ্নে কী বললেন

সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমানকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়—যদি ঐক্য সরকার গঠিত হয়, তাহলে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, “যে দল নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাবে, সেই দল থেকেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবে। যদি জামায়াত সর্বোচ্চ আসন পায়, তাহলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠিক হবে আমি প্রধানমন্ত্রী হবো কি না।”

এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ব্যক্তিগত দাবি বা আগ্রহের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দুর্নীতিবিরোধী শর্ত

ঐক্য সরকারের ধারণা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও তুলে ধরেছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ঐক্য সরকারে অংশ নেওয়া সব দলের মূল এজেন্ডা অবশ্যই দুর্নীতিবিরোধী হতে হবে।

তার মতে, দুর্নীতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার অন্যতম বড় সংকট। এই সমস্যা সমাধান ছাড়া টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।

সাক্ষাৎকারে অন্যান্য বিষয়

প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়াও রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কথা বলেন। এর মধ্যে রয়েছে আগামী জাতীয় নির্বাচন, সুযোগ পেলে ঐক্য সরকার গঠন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার।

এই সব বক্তব্য মিলিয়ে জামায়াতের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল ও অবস্থান সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে সরাসরি দাবি না করে ঐক্য ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা বলায় জামায়াতের বক্তব্যকে তুলনামূলকভাবে সংযত ও কৌশলগত হিসেবে দেখছেন অনেকে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই ধরনের বক্তব্য সরকার গঠন প্রক্রিয়া এবং জোট রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, জামায়াত আমিরের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে—আগামী দিনে দলটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্বের পরিবর্তে জোট ও ঐকমত্যভিত্তিক রাজনীতিকে সামনে রেখে এগোতে চাইছে।

Source: Based on reporting from Reuters and Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement