সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান মারা গেছেন
টাঙ্গাইলসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
দীর্ঘ সামরিক ও রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে টাঙ্গাইলসহ সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের আবহ নেমে এসেছে।
মৃত্যু ও জানাজার কর্মসূচি
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানিয়েছেন, বয়সজনিত শারীরিক জটিলতার কারণেই এই বর্ষীয়ান নেতা মৃত্যুবরণ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি শান্তিপূর্ণভাবেই নিজ বাসায় শেষ সময় কাটান।
আগামীকাল বাদ যোহর টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শোক প্রকাশ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। বিএনপির প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাসানুজ্জামিল শাহীনসহ দলের একাধিক নেতা বলেন, তাঁর মৃত্যুতে টাঙ্গাইল বিএনপি একজন অভিভাবকতুল্য নেতাকে হারাল। রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সাংগঠনিক দৃঢ়তার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
জন্ম ও সামরিক জীবন
মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ১৯৩৬ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাকোরকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাকিস্তান ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক জীবনে শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং দ্রুতই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।
রাজনৈতিক পথচলা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ধারায় সক্রিয় ছিলেন। ১৯৮৮ সালে রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সে সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ২০১২ সালের উপনির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হন। দীর্ঘ সময় ধরে টাঙ্গাইলের উন্নয়ন ও স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ছিল সুস্পষ্ট।
টাঙ্গাইলবাসীর কাছে তাঁর গুরুত্ব
টাঙ্গাইল সদর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকার কথা আজও স্মরণ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকের মতে, দলমত নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সক্ষমতাই তাঁকে দীর্ঘদিন জনপ্রিয় করে রেখেছিল।
রাজনীতির পরিবর্তনশীল বাস্তবতায়ও তিনি ছিলেন তুলনামূলকভাবে সংযত ও অভিজ্ঞ একজন নেতা, যিনি নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
শেষ বিদায়
একজন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিক হিসেবে মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানের মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; এটি টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন ও অবদান আগামী দিনগুলোতেও আলোচিত হয়ে থাকবে।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
