জয়দেবপুরে সাত যুবক হত্যাকাণ্ড: সাবেক আইজিপি সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ২০১৬ সালে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাত যুবককে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক আইজিপি সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসির সাবেক প্রধান এবং বগুড়ার তৎকালীন এসপি ও এএসপি। মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর সাতজন যুবককে আটক করে জয়দেবপুরের একটি ভাড়া বাসায় রাখা হয়। পরে ‘জঙ্গি আস্তানা’ হিসেবে সাজানো ওই বাসায় অভিযান চালানো হয় এবং সরাসরি গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিমের ভাষায়, “ওই সাতজনকে হত্যার পর তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ প্রচার করা হয়, অথচ প্রমাণ বলছে ঘটনাটি ছিল সাজানো নাটক।”

সেদিনের অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন স্পেট এইট’। এতে ৮৩০ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করা হয়। নিহতদের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে কবর দেওয়া হয়, পরিবারকে জানানো হয়নি। বহু বছর পর তদন্তে উঠে এসেছে নানা অসংগতির তথ্য। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের স্বজন এবং মামলার নথি—সবকিছুতেই পুলিশের বর্ণনার সাথে বড় ধরনের অমিল পাওয়া যায়।

নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে—সিলেটের সাইফুর রহমান বাবুল, সিরাজগঞ্জের ফরিদুল ইসলাম আকাশ এবং ঢাকার ইব্রাহীম বিন আজিম। তাদের পরিবার জানিয়েছে, সবাই আগে থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, তাদের সন্তানদের ‘উগ্রবাদী’ সাজিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত বাবুলের বাবা মতিউর রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “ছেলেকে নাটকীয়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।”

সাম্প্রতিক অগ্রগতি

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বলছে—এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ তারা হাতে পেয়েছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই সাবেক আইজিপি সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এখন আসামিদের আইনের মুখোমুখি করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

প্রশ্ন এখন—আট বছর আগের এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কি অবশেষে আলোর মুখ দেখবে, নাকি আবারও চাপা পড়ে যাবে নানা জটিলতার আড়ালে?

Next News Previous News