জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে বড় নিয়োগ
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন করে ১৫ হাজার ৮৫১ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও কারা অধিদপ্তরেও নতুন সদস্য যোগ হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২তম সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এই তথ্য জানান। সভায় আলোচনায় উঠে এসেছে—জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা রেকর্ড, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রস্তুতি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব সহিংসতা রোধ, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ, এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন ইস্যু।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা পুলিশে ১৫ হাজার ৮৫১ জন সদস্য নিয়োগ দিয়েছি। এ ছাড়া বিজিবিতে ৪ হাজার ৪৬৯ জন, আনসারে ৫ হাজার ৫৫১ জন, কারা অধিদপ্তরে ১ হাজার ৫৫৮ জন এবং ফায়ার সার্ভিসে ২০৮ জন নতুন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এসব নিয়োগের মধ্যে রয়েছে নতুন সৃজিত পদ ও পুরনো শূন্যপদ। পুলিশের ক্ষেত্রে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত, আর বিজিবি ও আনসারের ক্ষেত্রে কনস্টেবল পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মব সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা চাই মব জাস্টিস যতটা সম্ভব কমানো যায়। ঢাকায় এর হার কমলেও অন্যান্য এলাকায় এখনো কিছু ঘটনা ঘটছে। আমরা চেষ্টা করছি এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনার।”
১৫ আগস্ট ঘিরে ফুল দেওয়ার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফুল দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞার কথা আমি জানি না। আমাদের নির্দেশনা ছিল কেবল যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”
অন্যদিকে, এক আলোচিত মামলায় এক গণমাধ্যম মালিকের গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কোর্টকে জিজ্ঞাসা করুন। যদি পুলিশের গ্রেফতার বেআইনি হতো, তাহলে কোর্ট তাকে ছেড়ে দিত। কোর্ট স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই সাধারণ জনগণ বা নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়। তবে যে অপরাধী, সে কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। অনেক সময় দেখা যায় ছোট অপরাধীদের ধরা হয়, কিন্তু বড় অপরাধীরা পার পেয়ে যায়—এটি আমরা পরিবর্তন করতে চাই।”
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নিরাপত্তা জোরদারে এবার একসাথে এত বড় নিয়োগকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
প্রশ্ন হলো, এই বিপুল নিয়োগ ও কঠোর নজরদারি কি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে?
