যুদ্ধ শেষ হলেও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবে ইইউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের দায়ে রাশিয়ার ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধ শেষ হলেও অব্যাহত থাকবে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ইইউ’র প্রভাবশালী সদস্য ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন এক অনুষ্ঠানে বলেন, “যুদ্ধ শেষ হলেও (রাশিয়ার ওপর) চাপ অব্যাহত রাখা হবে। কেবল যুদ্ধবিরতি কিংবা শান্তিচুক্তি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।”

তিনি জানান, ইইউ ইতোমধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ১৯তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের খসড়া তৈরি করেছে এবং তা শিগগিরই কার্যকর হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি ফিনল্যান্ডও রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত রপ্তানি শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “ইইউ স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে নয়, তবে কঠোর শর্তের ভিত্তিতে ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হতে পারে।”

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলমান এই যুদ্ধে লাখো প্রাণহানি ঘটেছে। অভিযান শুরুর পরপরই ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্যরাষ্ট্রগুলো রাশিয়ার ব্যাংক হিসাব, সোনা, জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যদিও রাশিয়ার অর্থনীতি পুরোপুরি পঙ্গু হয়নি, যুদ্ধও থামেনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধাবসানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দেন। গত কয়েক মাসে তিনি তুরস্কের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি সংলাপে সমর্থন দিয়েছেন এবং সম্প্রতি আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কি ও ইইউ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, “শিগগিরই যুদ্ধের অবসান সম্ভব।”

তবে ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, “পুতিন আসলে পুরো ইউক্রেন দখল করতে চাইছেন এবং ইইউ এই অবৈধ উচ্চাকাঙ্ক্ষা কখনও সফল হতে দেবে না।” তিনি আরও জানান, যুদ্ধ শেষে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে ফিনল্যান্ড। এছাড়া, দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনিক সংস্কারে ইতিবাচক অগ্রগতি হলে কিয়েভকে ন্যাটো ও ইইউ’র সদস্যপদও দেওয়া হতে পারে।


প্রশ্ন রইল: যুদ্ধ শেষ হলেও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার এ সিদ্ধান্ত কি শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়াবে? আপনার মতামত কী?

Next News Previous News