স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সতর্ক বার্তা: লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে লাখ টাকার পুরস্কার
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, “চেয়ারে বসার পর হঠাৎ করেই অনেক বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন গজিয়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব পরিচয়ের আড়ালে কেউ চাঁদাবাজি বা অনিয়মে জড়িত থাকলে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, “উপদেষ্টার কেউ দুর্নীতিতে জড়ালে সে খবর প্রকাশ করবেন, তবে ভুল তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ করছি।”
আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। পিস্তল ও শটগানের জন্য ৫০ হাজার টাকা, চায়না রাইফেলের জন্য এক লাখ, এসএমজির জন্য দেড় লাখ, আর এলএমজির জন্য পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। প্রতিটি রাউন্ড গুলির জন্যও নির্ধারিত হয়েছে ৫০০ টাকা।
উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন, যে কেউ তথ্য দিলে তার পরিচয় গোপন রাখা হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে যতটা সম্ভব লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করবো।”
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়েও তিনি কড়া অবস্থান জানান। গত এক বছরে এ ধরনের অভিযোগ আসেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
গাজীপুর পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার সড়ক বন্ধ করে জনভোগান্তি তৈরি করছেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “কমিশনারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।”
অন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- ভারতে গ্রেফতার হওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যামামলার আসামি হিসেবে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
- বিজিবি-বিএসএফের মধ্যকার বিষয়ে নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- মব বা অনিয়ন্ত্রিত জনতা পুরোপুরি নির্মূল না হলেও, তা অনেকটা কমেছে বলে দাবি করেন উপদেষ্টা।
নির্বাচন প্রসঙ্গে
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “এটি জনগণ ও রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভর করে। জনগণ ইতিমধ্যে নির্বাচনমুখী হয়ে উঠেছে। প্রধান উপদেষ্টা যেমন বলেছেন, উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই জাতির প্রত্যাশা।”
পটভূমি
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আগের সরকারের পতন ঘটে। এরপর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশের থানা-ফাঁড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজারের বেশি গুলি লুট হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, পিস্তল, শটগান, গ্যাসগান, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার ও সাউন্ড গ্রেনেডসহ নানা অস্ত্র ও সরঞ্জাম।
অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের এ উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কত দ্রুত উদ্ধার সম্ভব হবে, আর তা কি নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে যথেষ্ট হবে?
