আওয়ামী লীগ-বিরোধী বিতর্কিত ইতিহাসে জাতীয় পার্টির ভূমিকা নিয়ে আলোচনার ঝড়
ঝিনাইদহে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সামনে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন, বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নির্বাচন ও জুলাই বিপ্লবে জাতীয় পার্টি সহযোগিতার মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেছে। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করার দাবির আইনগত দিক যাচাই করা হবে।
“গণহত্যা, সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদের কারণে যদি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হতে পারে, তবে জাতীয় পার্টি কেন নিষিদ্ধ হবে না? জাতীয় পার্টি ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশের মানুষের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে। দেশের মানুষের রক্ত নিয়ে খেলেছে জাতীয় পার্টি।”
এছাড়া, নুরুল হক নুরের ওপর হামলাকে তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, “এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, নিন্দনীয় ও অপরাধমূলক ঘটনা।”
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘মব’ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হলেও, যেখানে যেখানে এই ধরনের ঘটনা ঘটে, তা সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন জমে থাকা ক্ষোভ বিভিন্নভাবে প্রকাশ পাচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
“দুর্নীতিবাজদের জন্য সতর্কতা, এই দেশ একটি যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহিদরা জীবন দিয়েছেন। নতুন বাংলাদেশে কোনো দুর্নীতিবাজকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। আমরা দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করতে চাই।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এএসএম আমানুল্লাহ, জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল, জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল মজিদ, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
এই বিতর্কিত মন্তব্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নতুন রাজনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, অতীতের রাজনৈতিক ঘটনা এবং তাদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে আমরা কতটা প্রভাবশালী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি? নাগরিকরা কি এই বিতর্কের মধ্যে স্বচ্ছ এবং কার্যকর সমাধান দেখতে পাবেন?
