ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লো। ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলায় হুতি নিয়ন্ত্রিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সানার একটি আবাসিক ভবনে টার্গেট করে বোমাবর্ষণ চালানো হয়। ওই হামলাতেই প্রাণ হারান প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগী। আরেকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এ হামলায় সরকারের একাধিক শীর্ষ নেতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ইসরায়েলের হিব্রু ভাষার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, হুতি সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ অন্তত ১০ উচ্চপদস্থ নেতাকে লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়। ইংরেজি সংবাদমাধ্যম *টাইমস অব ইসরায়েল* উল্লেখ করেছে—প্রধানমন্ত্রীকে আলাদাভাবে টার্গেট করে বিমান হামলা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনা সূত্র জানায়, ওই সময় হুতি সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাদের নেতা আব্দুল মালেক আল-হুতির ভাষণ শুনছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত এ হামলা পরিচালনা করা হয়। সূত্র আরও জানায়, এলাকাটি শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সুরক্ষিত থাকলেও যুদ্ধবিমান হামলা চালাতে সক্ষম হয়। হতাহতদের সঠিক সংখ্যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
২০১৫ সালে ইরান-সমর্থিত হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এরপর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযান চললেও হুতিরা রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। নিহত প্রধানমন্ত্রী সেই সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।
হুতিরা দীর্ঘদিন ধরে গাজার পরিস্থিতির প্রতিবাদে ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সাম্প্রতিক হামলা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে—এই হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা দেবে? শান্তি নাকি আরও সংঘাত—কোন পথে যাবে পরিস্থিতি?
