সিলেটের ‘সাদাপাথর’ এলাকায় নজিরবিহীন লুটপাট, পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য ম্লান
সিলেটের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ ‘সাদাপাথর’ এলাকা এখন প্রায় বিবর্ণ। এক সময়ের মনোমুগ্ধকর এ স্থান ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে নজিরবিহীন পাথর লুটের ঘটনায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের আগস্টের পর থেকে দিনে-রাতে অবাধে পাথর উত্তোলন ও পাচার চলছে। প্রতিরাতে শতাধিক গাড়ি পাথর বহন করে এলাকা ছাড়ছে—এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা গেছে।
এ বিষয়ে বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, “আগের চার বছর জাফলং-এ পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখতে পেরেছিলাম, এখন আমি উপদেষ্টা হয়েও পারলাম না।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাথর উত্তোলনে সর্বদলীয় ঐক্য দেখছি। একটি সুন্দর জায়গাকে কীভাবে হাতের মুঠোয় নিয়েও ধ্বংস করা যায়, বাংলাদেশে এলে তা শিখতে হবে। দেশের চাহিদার মাত্র ৬ ভাগ পূরণ হয় এসব পাথর দিয়ে, বাকি ৯৪ ভাগ আমদানি হয়—তাহলে এই ৬ ভাগ তুলতেই হবে কেন?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “কেন আমরা জাফলং-এ ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তুলতে পারলাম না? আমরা যেমন সৌন্দর্যমণ্ডিত জাফলং দেখেছি, নতুন প্রজন্ম সেই দৃশ্য থেকে বঞ্চিত হলো কেন? পাথর তুলে কত আয় হয়, আর ইকো-ট্যুরিজম থেকে কত আয় হতে পারে—এই তুলনামূলক বিশ্লেষণ কি কেউ করেছে?” তাঁর মতে, সারাদিন পানিতে নেমে পাথর তোলা কোনো কর্মসংস্থান নয়, বরং এটি স্পষ্ট শোষণের উদাহরণ।
ধলাই নদীর উৎসমুখে সীমান্ত সংলগ্ন ১০ নম্বর এলাকার ‘সাদাপাথর’ প্রতিবছর লাখো পর্যটককে টানে তার অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য। কিন্তু লাগামহীন লুটপাট ও পাথর উত্তোলনের কারণে সেই সৌন্দর্য এখন বিলীন হওয়ার পথে। এলাকাবাসীর দাবি, লুটপাটের নেতৃত্বে রয়েছেন এক স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি।
প্রশ্ন রইল—যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ করে টেকসই পর্যটনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি আয় সম্ভব, সেখানে বারবার কেন ধ্বংসের পথই বেছে নেওয়া হচ্ছে?
