যুদ্ধবিমান ধ্বংসের ভারতীয় দাবি ‘মিথ্যা ও হাস্যকর’ — পাকিস্তানের পাল্টা বক্তব্য

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা ও হাস্যকর’ আখ্যা দিয়েছেন। সংঘাতের প্রায় তিন মাস পর হঠাৎ এমন দাবি আসায় তিনি একে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, “ভারত পাকিস্তানের একটি বিমানকেও আঘাত বা ধ্বংস করতে পারেনি।”

গত শনিবার বেঙ্গালুরুর এক অনুষ্ঠানে ভারতের বিমান বাহিনী প্রধান জানান, সামরিক সংঘাতে পাকিস্তানের অন্তত পাঁচটি যুদ্ধবিমান ও একটি বড় সামরিক বিমান তারা ভূপাতিত করেছে। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাল্টা দাবি করে বলেন, সংঘাতে পাকিস্তানের কোনো বিমান ধ্বংস হয়নি, বরং পাকিস্তান ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্যকে তিনি “হাস্যকর” বলে মন্তব্য করেন।

তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধ জেতা হয় পেশাদারিত্ব দিয়ে, মনগড়া গল্প দিয়ে নয়।” তিনি প্রস্তাব দেন, দুই দেশের বিমানের তালিকা স্বাধীন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হোক।

পাকিস্তান জানায়, সংঘাতের পরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভারতের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল, যা স্বাধীন পর্যবেক্ষক, বিশ্ব নেতা এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ সূত্রও স্বীকার করেছে। পাকিস্তানের দাবি, সংঘাতে তারা ভারতের একাধিক বিমানঘাঁটি অকার্যকর করে দেয় এবং নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারতের ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে বেশি হয়।

উল্লেখ্য, এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটক হত্যাকাণ্ডের পর উত্তেজনা বাড়ে। ভারত হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানায়। এর পর ৬ মে রাতে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়, যা পাকিস্তান পাল্টা ‘অপারেশন বুনিয়ানুন মারসুস’ নামে প্রতিহত করে। সংঘাতে দুই পক্ষই যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে এবং ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়।

ভারতের বিমান বাহিনী প্রধানের দাবি, “অন্তত পাঁচটি যুদ্ধবিমান আমরা নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করেছি। এছাড়া একটি বড় সামরিক বিমানও রয়েছে। এগুলো এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।”

প্রশ্ন রইল: সংঘাতের এতদিন পর দুই দেশের এ ধরনের বিপরীতমুখী দাবি কি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে?

Next News Previous News