বাংলাদেশ-ভারত ভবিষ্যৎ সম্পর্ক: দিল্লিতে চূড়ান্ত পররাষ্ট্র বৈঠক সম্পন্ন
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ মূল্যায়নে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যেখানে উঠে এসেছে দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ও আগামী দিনের রূপরেখা।
ভারতের সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটি সোমবার একটি চূড়ান্ত বৈঠক করেছে। কমিটির চেয়ারপারসন শশী থারুর জানিয়েছেন, “আমরা বাংলাদেশ নিয়ে ৩-৪টি বৈঠক করেছি। এটিই ছিল শেষ বৈঠক যেখানে পররাষ্ট্রসচিব আমাদের একটি ব্রিফিং দিয়েছেন।” তাঁর ভাষায়, “এই ব্রিফিংয়ে সদস্যদের জিজ্ঞেস করা সব প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পররাষ্ট্রসচিব সেগুলোর জবাব দিয়েছেন।”
এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও কৌশল নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। আলোচনায় উঠে আসে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুদানের দাবিসংক্রান্ত আগের সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কেও।
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। থারুর এ প্রসঙ্গে বলেন, “এই বৈঠকের পর কমিটির কাজ হলো একটি প্রতিবেদন তৈরি করা, সেটি অনুমোদন করা এবং সংসদে উপস্থাপন করা।”
এর আগে ২৭ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি প্রথম শ্রেণির চারজন বিশেষজ্ঞের মতামত শুনেছিল। সেই সভা শেষে থারুর জানিয়েছিলেন, “এই অন্তর্দৃষ্টি আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ছিল।” সেই সময় তিনি মন্তব্য করেন, সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা কমেছে—যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশে রাজনীতির উত্তাল আবহে এ বৈঠককে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে কূটনৈতিক মহল। দিল্লিতে এই আলোচনার সময়, ঢাকায় রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল উত্তপ্ত। ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বরাবরই একটি অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত।
এই বৈঠক কি সত্যিই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবে? নাকি কূটনৈতিক সৌজন্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও জটিল সমীকরণ? আপনাদের মতামত কী?
