আর গুম নয়: ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন
দেশে যেন আর কোনোদিন গুমের মতো ঘটনা না ঘটে—এ লক্ষ্যেই সরকারের নতুন উদ্যোগ। ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদের ৪০তম বৈঠকে। এক ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব জানিয়েছেন, “তাঁর ভাষায়, ‘বাংলাদেশে যেন আর কোনও দিন গুম না হয়, সেই বিষয়ে আইন নিয়ে সরকার কাজ করছে।’”
বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চিলাহাটি স্থলবন্দর, দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর এবং তেগামুখ স্থলবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাল্লা স্থলবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রেস সচিব জানান, “এই স্থলবন্দরগুলোতে কোনো কাজ হচ্ছিল না। আরও চারটি বন্দর আছে, যেগুলো নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা হবে।”
সাংস্কৃতিক খাতে বড় সিদ্ধান্ত এসেছে—প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর লালন সাঁই-এর তিরোধান দিবস এখন থেকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হবে। আগে শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী এ শ্রেণিভুক্ত ছিল।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরেই গুম প্রতিরোধে কার্যকর আইনের দাবি জানিয়ে আসছিল। এই খসড়া অনুমোদন সেই দাবির দিকেই একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখা যাবে—চূড়ান্ত আইন প্রণয়ন হলে বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রশ্ন রইল—নতুন এই আইনি কাঠামো কি সত্যিই গুমের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে?
