শ্রীলঙ্কায় গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার

সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

২০২২ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছাড়লে দায়িত্ব নেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি ক্ষমতা হারান। এর আগে সাতবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ।

অভিযোগ কী?

সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কিউবার হাভানায় জি৭৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর ফেরার পথে তিনি লন্ডনে যান। সেখানে তার স্ত্রী প্রফেসর মৈত্রী বিক্রমাসিংহের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অভিযোগ হলো, ব্যক্তিগত এই সফরের খরচ সরকারি অর্থ থেকে বহন করা হয়েছে এবং তিনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রোটোকলও ব্যবহার করেন।

সিআইডির পদক্ষেপ

সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান—“ব্যক্তিগত কাজে সরকারি অর্থ ব্যবহারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে জবানবন্দি দিতে এসে তিনি গ্রেপ্তার হন।” আজ তাঁকে কলম্বো দুর্গ মেজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হতে পারে।

বিতর্কিত ভ্রমণ

বিবিসি সিনহালা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে বিক্রমাসিংহে মোট ২৩ বার বিদেশ সফর করেছেন, যার জন্য সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন রুপি ব্যয় হয়। যদিও বর্তমানে লন্ডন সফর ঘিরেই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক ছড়িয়েছে।

পটভূমি

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের পর গণঅভ্যুত্থানে গোতাবায়া রাজাপাকসে ক্ষমতাচ্যুত হলে দায়িত্ব নেন রনিল। তিনি সংস্কারমূলক কিছু পদক্ষেপ নিলেও রাজাপাকসে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং কঠোর নীতির কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

প্রশ্ন হচ্ছে—একটি দেশ যখন অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে, তখন শীর্ষ নেতাদের ভ্রমণ ও ব্যয় কতটা স্বচ্ছ হওয়া উচিত? এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

Next News Previous News