ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ: ইসি মন্তব্ব

বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। শুক্রবার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে দুই দিনব্যাপী কোর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইসির মূল বার্তা

তিনি বলেন, “কমিশনের প্রধান দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। এর বিকল্প কোনো পথ নেই। জীবন চলে যেতে পারে কিন্তু নির্বাচনে ফাঁকিবাজি, ধোঁকাবাজি করা যাবে না। কমিশন ও মাঠপর্যায়ের সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।”

এছাড়াও, তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি বা ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি’ দুর্বল হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই কমিশন হোঁচট খাচ্ছে উল্লেখ করেন। “কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান, গোপনীয়তা রক্ষা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে কমিশনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।”

প্রিজাইডিং অফিসারের গুরুত্ব

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “ভালো নির্বাচন ছাড়া আমাদের সামনে দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই। এ নির্বাচনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে প্রিজাইডিং অফিসার। তাদের শক্তিশালী ও দক্ষ করে তুলতে পারলেই একটি সুন্দর নির্বাচন সম্ভব হবে।”

তিনি প্রশিক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য সব সমস্যার একটি তালিকা তৈরি করে সমাধানের পথ নির্ধারণ করতে হবে। “যদি একজন প্রিজাইডিং অফিসার সাহসী ও সৎভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে একটি ভোটকেন্দ্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।”

প্রেক্ষাপট ও চিন্তার খোরাক

বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচনগুলো সাধারণত উত্তেজনাপূর্ণ হলেও, এবারের নির্বাচনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে। একদিকে কমিশন তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা পুনর্গঠন করছে, অন্যদিকে প্রিজাইডিং অফিসারদের ক্ষমতা ও দক্ষতা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার মূল চাবিকাঠি।

আপনার মতামত কী—একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কোনটি হতে পারে?

Next News Previous News