৭৫ বছরে মোদি: অবসর নেবেন কি না, বিতর্কে সঙ্ঘপ্রধানের স্পষ্ট বার্তা
আগামী সেপ্টেম্বরে ৭৫ বছরে পা দিতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের দাবি ছিল—রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী, ৭৫ বছর বয়স হলে পদ ছাড়তে হয়। তাই মোদি ও সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত—দু’জনেরই অবসর নিয়ে জল্পনা জোরদার হয়েছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবার ভাগবত স্পষ্ট করে জানালেন, তিনি নিজের অবসর নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর ভাষায়, “আমরা সেকাজই করব, সঙ্ঘ আমাদের যা করতে বলবে। বয়স ৮০ হলেও যদি দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমাকে সেই কাজ করতেই হবে।”
মোদির অবসর প্রসঙ্গে প্রশ্ন
সাংবাদিকদের প্রশ্নে ভাগবত মোদির অবসর প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। বিজেপির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে—দলীয় গঠনতন্ত্রে বয়সসীমা নিয়ে কোনো লিখিত নিয়ম নেই। উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারে ৮০ বছর বয়সী এক মন্ত্রী এখনও দায়িত্বে আছেন এবং সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
কোথা থেকে শুরু বিতর্ক?
২০১৯ সালে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন—৭৫ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নেতা প্রার্থী হবেন না। তখনই লালকৃষ্ণ আডবাণীর মতো বর্ষীয়ান নেতাদের টিকিট দেওয়া হয়নি। সেই প্রেক্ষাপট টেনেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে—একই নিয়ম মোদির ক্ষেত্রে কেন প্রযোজ্য হবে না?
ভাগবত এদিনও পুনরায় জানালেন, সঙ্ঘের সংবিধানে এমন কোনো লিখিত নিয়ম নেই।
জল্পনার পেছনের কারণ
চলতি বছরের শুরুতে নরেন্দ্র মোদি নাগপুরে গিয়ে ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই বিরোধীরা অভিযোগ তোলে—অবসর ও পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়েই ওই বৈঠক হয়েছে। তবে বিজেপি ও আরএসএস উভয়েই বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
সর্বশেষ প্রেক্ষাপট
ভারতের রাজনৈতিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন—৭৫ বছরে পৌঁছেও কি মোদি নেতৃত্বে থাকবেন? বিজেপি বলছে, কার্যক্ষমতা ও নেতৃত্বের যোগ্যতাই এখানে আসল বিষয়, বয়স নয়।
আপনার কী মত—বয়সসীমা রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত, নাকি কর্মক্ষমতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত?
