সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডে পাগলপ্রায় পিতা: “তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও”
গাজীপুরে নির্মমভাবে নিহত সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিনের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। পুত্রশোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা মো. হাসাল জামিল। বুকে পাথরের মতো চাপা কষ্ট নিয়ে তিনি বলছেন, “কী অপরাধ করেছিল আমার ছেলে? কী অন্যায় করেছিল সে? কেন এমন হলো? আমি কারো ক্ষতি চাই না। তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও।”
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভাটিপাড়ার এই পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটাই প্রশ্ন তাদের মুখে—তুহিনকে কেন হত্যা করা হলো?
তুহিনের মা সাহাবিয়া খাতুন বকুল চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, “গত পরশু আমার ছেলে ওষুধ কেনার টাকা পাঠিয়েছে। কল দিয়ে আমার দুই নাতির সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছে। তারপর আর কোনো কথা হয়নি। আমার বাবারে কারা মারলো? কী দোষ তার?”
তুহিনের বড় বোন রত্না বেগম ভাইয়ের মৃত্যুতে ছুটে এসেছেন বাবার বাড়িতে। ভাইয়ের শোকে জড়িয়ে ধরেন মাকে। তাঁর কণ্ঠে কান্না—“আমার ভাই আমার কোলে বড় হয়েছে। কেন তাকে মানুষ হত্যা করল? সে তো কারো ক্ষতি করেনি।”
তুহিনের ভগ্নিপত্নী নূরুন্নাহার বেগম ক্ষোভে বলেন, “যারা তুহিনকে মেরেছে, তাদের ফাঁসি চাই। তারা মানুষ না, অমানুষ।”
তুহিনের ভাগ্নে আবু রায়হান বলেন, “মামা ব্যবসার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করতেন। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। আমারা তার খুনিদের ফাঁসি চাই।”
তুহিনের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাঁর বড় ভাই জসিম উদ্দিন একসময় গাজীপুরে ব্যবসা করতেন। সেই সূত্রেই তুহিন গাজীপুরে বসবাস শুরু করেন। পরে বড় ভাই ক্যান্সারে মারা গেলে পরিবার পরিচালনার ভার নেন তুহিন ও তাঁর অন্য ভাই সেলিম। বৃদ্ধ বাবা-মার চিকিৎসা ও দেখভাল করতেন এই সন্তানরাই।
বর্তমানে তুহিনের মরদেহ গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় রাখা হয়েছে। আজ বাদ জোহর প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
সাম্প্রতিক আপডেট: বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তুহিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, চাঁদাবাজি নয়, ভিডিও ধারণ করার কারণেই এই হামলার শিকার হন সাংবাদিক তুহিন।
এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয়—সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কতটা অনিশ্চিত! প্রশ্ন থেকে যায়, এই হত্যার বিচার কবে? দোষীরা কি আদৌ শাস্তি পাবে?
