ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সরাসরি হস্তক্ষেপ’— দাবি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরবৈরী প্রতিবেশীর মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ছিল— এমন বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর ভাষায়, “ভারত ও পাকিস্তান যখন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তখন আমরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করি এবং প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) এই শান্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম হন।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, সম্প্রতি ‘ইডব্লিউটিএন’-এর দ্য ওয়ার্ল্ড ওভার অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ থামাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং নিজেকে “শান্তির প্রেসিডেন্ট” হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, শুধু ভারত-পাকিস্তান নয়, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, আজারবাইজান-আর্মেনিয়া এবং ডিআর কঙ্গো-রুয়ান্ডার মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতেও ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টার নজির রয়েছে।

এর আগেই, মে মাসের ১০ তারিখে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তান রাতভর আলোচনার পর তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। পরে সেটিই বাস্তবে কার্যকর হয়।

তিনি এরপর একাধিকবার বলেছেন, দুই দেশকে বোঝানোর মাধ্যমে সংঘাত কমাতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন এবং যুদ্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াবে— এই প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।

তবে ভারতের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন

ভারতের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। নয়াদিল্লির ভাষায়, দুই দেশের সেনাবাহিনীর আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতি এসেছে। কোনোরূপ বাইরের চাপে নয়।

লোকসভায় ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “এটি সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন যে কোনও চাপের কারণে ভারত সামরিক অভিযান বন্ধ করেছে।” তাঁর দাবি, অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল ভারতের নিজস্ব কৌশলগত মূল্যায়নের অংশ।

ভারতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ডিজিএমও নিজেই ভারতকে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও শুল্ক আরোপ

সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, ভারত ট্রাম্পকে কৃতিত্ব না দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং সেই প্রতিক্রিয়াতেই ভারতের ওপর বড় ধরনের আমদানি শুল্ক আরোপ করেন, বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে।

কুগেলম্যানের ভাষায়, “চীন ট্রাম্পকে এভাবে রুখে দেয়নি। চীনের কোনও শীর্ষ নেতা তাকে ফোন করে কী ঠিক আর কী ভুল, সেই নির্দেশ দেয়নি। কিন্তু এসবই ঘটেছে ভারতের ক্ষেত্রে।”

এদিকে নয়াদিল্লি বলছে, তারা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই রাশিয়া থেকে তেল কিনছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপকে “অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য” হিসেবে অভিহিত করেছে।

প্রশ্ন থেকে যায়— কে বলছে সত্য?

যুক্তরাষ্ট্র একদিকে বলছে, তারা শান্তি প্রতিষ্ঠার নেপথ্য নায়ক, আর ভারত বলছে, সবই তাদের নিজস্ব উদ্যোগে ঘটেছে। দুই বিপরীত দাবির মধ্যে সাধারণ মানুষ কোথায় দাঁড়াবে? আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্ষমতার ভাষা কি আসলেই সত্যকে ঢেকে দেয়?

Next News Previous News