ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে আবারও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান অমর একুশে হলের রিডিংরুমে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করমর্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষ, পাঠকক্ষ বা পরীক্ষার হলে প্রচারণা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই এই ঘটনা আচরণবিধি ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান— “অমর একুশে হলে এমন একটি অভিযোগ লিখিতভাবে আমাদের কাছে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” একইসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. গোলাম রব্বানী বলেছেন— “কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে কমিশন অবশ্যই তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা খাওয়া-দাওয়া শেষ করে রিডিংরুমের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। ভেতরের শিক্ষার্থীরা সৌহার্দপূর্ণভাবে ডাকলে আমরা প্রবেশ করি। ভেতরে ঢুকলে শিক্ষার্থীরা ঘিরে ধরেন, তখন আমি তাদেরকে সালাম জানাই। এটিকে কোনোভাবেই আচরণবিধি ভঙ্গ বলা যায় না। মূলত আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলগুলোর প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, কমিশন নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। “ডাকসু ফর চেঞ্জ” প্যানেলের ভিপি প্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, “ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা রিডিংরুমে প্রচারণা চালালেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ আমাদের ক্ষেত্রে সামান্য বিষয়েও অভিযোগ তোলা হয়।” একইভাবে “ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট”-এর জিএস প্রার্থী এসএম ফরহাদ বলেন, “রিডিংরুমে প্রচারণার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।”

নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার কিংবা আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে।

তাই আবিদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীরা এখন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন

Next News Previous News