শেখ হাসিনা সরকারের নজরদারির সরঞ্জাম ক্রয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি
শেখ হাসিনা সরকারের নজরদারি সরঞ্জাম কেনাকাটা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি
অন্তর্বর্তী সরকার দেশের নজরদারি সরঞ্জাম কেনাকাটার বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি, যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি-বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান—“সারভেইলেন্স সরঞ্জাম কেনা নিয়ে কেউ বলছেন প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার, কেউ বলছেন ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা আছে, গত স্বৈরাচারী সরকার নাগরিক অধিকার খর্ব করে অবৈধ নজরদারি চালিয়েছে, স্পাইওয়্যার ব্যবহার করেছে, এবং সংবিধানে প্রদত্ত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করেছে।”
কমিটি অনুসন্ধান করবে—কত টাকা দিয়ে, কোথা থেকে, এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, উল্লেখযোগ্য অংশ ইসরাইল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
এছাড়া, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জানানো হয়—৩৬৭টি সংস্কার সুপারিশের মধ্যে ৩৭টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত, ১৬টি পুরোপুরি এবং ১৪টি আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। শ্রম খাতে ৮২টি, নারী বিষয়ক ৭১টি, স্থানীয় সরকারে ৩৭টি, স্বাস্থ্য খাতে ৩৩টি এবং গণমাধ্যম খাতে ২৩টি সংস্কার সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চিহ্নিত হয়েছে।
প্রেস সচিব জানান, পুলিশের জন্য মারণাস্ত্র কেনাকাটা নিয়েও তদন্ত চলছে—“কীভাবে কেনা হয়েছে, এবং কীভাবে ব্যবহার হয়েছে—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
প্রশ্ন রইল: দেশের নিরাপত্তা রক্ষার নামে যদি জনগণের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা খর্ব হয়, তবে সেই ভারসাম্য কিভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?
