ভোটার তালিকা নিয়ে তীব্র মুখোমুখি: রাহুল গান্ধী বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন

ভারতের রাজনীতিতে ভোটার তালিকা নিয়ে তুমুল বিতর্ক। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, ব্যাপকভাবে ‘ভোট চুরি’ হচ্ছে। অপরদিকে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে—হয় অভিযোগের পক্ষে শপথপত্র জমা দিতে হবে, নয়তো জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

বিহারের সাসারামে দাঁড়িয়ে রবিবার রাহুল গান্ধী ঘোষণা দেন, “ভোটার তালিকায় কারচুপি করে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন লুট করা হচ্ছে।” একই দিনে দিল্লিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনজন নির্বাচন কমিশনার জানান, এমন বক্তব্য আসলে দেশের সংবিধানের অবমাননা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভাষায়, “কমিশনের চোখে শাসক বা বিরোধী – সব দলই সমান। যারা ‘ভোট জালিয়াতি’ বা ‘ভোট চুরি’র মতো শব্দ ব্যবহার করছেন, তারা দেশের সংবিধানকেই অমর্যাদা করছেন।” তিনি আরও বলেন, সাত দিনের মধ্যে রাহুল গান্ধী যদি হলফনামা না দেন, তবে তাঁর অভিযোগগুলো কমিশন আমলে নেবে না।

রাহুল গান্ধীর ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’

ইসি’র সঙ্গে এই টানাপোড়েনের মধ্যেই রাহুল গান্ধী শুরু করেছেন ১৬ দিনের একটি ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’। প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার পথজুড়ে এই কর্মসূচি চলবে বিহারের ২০টি জেলায়। যাত্রার শুরুতে তিনি বলেন, “গরিব মানুষের একটাই অধিকার—ভোটের অধিকার। কোনো মূল্যেই আমরা সেটা চুরি হতে দেবো না।”

বিতর্কের সূত্রপাত ও পরিপ্রেক্ষিত

এই বিতর্ক শুরু হয়েছিল ৭ আগস্ট। রাহুল গান্ধী তখন এক সংবাদ সম্মেলনে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দেখান, বেঙ্গালুরুর মহাদেবপুরা আসনে মাত্র ১০ বর্গফুটের একটি ঘরে ৮০ জন ভোটার নথিভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া হাজারো ভুয়া নাম যোগ হয়েছে এবং বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের অনিয়ম অন্তত ৩০টি আসনে হয়ে থাকলে বর্তমান সরকারের ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে—রাহুল গান্ধী নিজে মহাদেবপুরার ভোটার নন। ফলে অভিযোগ তুলতে হলে তাঁকে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি

বিহারে বর্তমানে বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বিরোধীরা এটিকে ভোট কারচুপির কৌশল হিসেবে দেখছে, আর বিজেপি বলছে এটি বিরোধীদের অযথা অভিযোগ।

আগামী নভেম্বরে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অনেকেই মনে করছেন, ভোটার তালিকা ঘিরে এই সংঘাতই হতে যাচ্ছে নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ইস্যু।


প্রশ্ন রইলো: ভোটার তালিকা নিয়ে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা কি ভারতের গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করবে, নাকি নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করতে পারবে তারা সত্যিই নিরপেক্ষ?

Next News Previous News